

ইসরায়েল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে এই নতুন সমঝোতার ঘোষণা এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করাসহ আরো কয়েকটি শর্তও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর এবং হিজবুল্লাহর উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো। এসব ঘটনা এপ্রিল মাসে হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে পরীক্ষার মুখে ফেলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সব দেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়টি দুই সার্বভৌম সরকারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে হবে। কোনো পক্ষ যেন লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করতে না পারে, সে ধরনের যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।”
চুক্তির আরেকটি শর্ত হলো, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত লিতানি নদী থেকে সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও যোদ্ধাকে সরিয়ে নিতে হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “পাইলট জোন” গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এককভাবে নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।”
এর আগে সোমবার একটি আংশিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই পক্ষ। লেবাননের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার আওতায় ইসরায়েল বৈরুতে বোমা হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালাবে না।
উভয় দেশ আগামী ২২ জুন আবার বৈঠকে বসবে। একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে ওই বৈঠকে আরো আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ ঘোষণা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
