

ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস। তবে ট্রাম্প নিজে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে পারবেন কিনা। তিনি দাবি করেন তার নেতৃত্বে বিশ্বের সাতটি সংঘাত মিটেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে আরও বলা হয়, ট্রাম্প বহুবারই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তবে নয়াদিল্লি তা অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন নরওয়ের নোবেল কমিটি হয়তো ‘কোনো না কোনো কারণ খুঁজে বের করবে’ যাতে তাকে পুরস্কারের জন্য বিবেচনা না করতে হয়। উল্লেখ্য, মিশরের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরাইল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক যখন তার কাছে জানতে চান, শুক্রবার ঘোষণা করা হবে নোবেল শান্তি পুরস্কার। এই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি কী ভাবছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না। মার্কো (পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও) বলবে আমরা সাতটা যুদ্ধ মিটিয়েছি। আমরা অষ্টমটির কাছাকাছি। আমার মনে হয় রাশিয়া পরিস্থিতিও শেষ পর্যন্ত সমাধান করব। ইতিহাসে এতগুলো সংঘাত কেউ মেটাতে পারেনি।’
তিনি ইসরায়েল-হামাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার প্রসঙ্গ টানেন। যদিও কয়েকটি দেশ ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হয়তো তারা (নোবেল কমিটি) কোনো কারণ খুঁজে বের করবে আমাকে (পুরস্কার) না দেয়ার জন্য।’ ট্রাম্পের এই সংশয়ের মধ্যেই হোয়াইট হাউস সামাজিক মাধ্যমে রিপাবলিকান নেতার একটি ছবি শেয়ার করে তাতে ক্যাপশন দেয়, ‘দ্য পিস প্রেসিডেন্ট’ (শান্তির প্রেসিডেন্ট)।
ট্রাম্প বহুদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে আগ্রহী। তিনি প্রায়ই প্রশ্ন তোলেন, তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা কেন দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরেই এই পুরস্কার পেলেন। ট্রাম্প বলেন সে তুলনায় তার শান্তিচুক্তির রেকর্ড অন্য অনেক নেতার চেয়ে বড় ও প্রভাবশালী। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এমন অনেকেই আছেন যারা নোবেল মনোনয়ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এমনকি ৩১ জানুয়ারি মনোনয়নের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তারা এ প্রচেষ্টা চালান। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু পুরস্কার পাননি। মনোনয়ন দাতাদের মধ্যে অন্যতম দেশ পাকিস্তান। গত ২০ জুন ইসলামাবাদ ঘোষণা দেয়, তারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করবে। ট্রাম্প দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটাতে ভূমিকা রেখেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ওই ঘোষণা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো কৃতিত্ব দেয়নি ভারত।

