

কন্নড় সিনেমার বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা ঋষভ শেঠি। আঞ্চলিক সিনেমা দিয়ে সাফল্য পাওয়া এই তারকা প্যান-ইন্ডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। গত বছর ‘কানতারা টু’ সিনেমা মুক্তির পর অভূতপূর্ব সাফল্যে লাভ করে; যা বিভিন্ন ভাষায় সিনেমার রেকর্ড ভেঙেছে। এর সঙ্গে ঋষভ শেঠির বাজারমূল্য আকাশচুম্বী বেড়েছে। তার পারিশ্রমিক ২৪০০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় তার অবস্থান এখন দৃঢ়!
ফিল্মিবিট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘কানতারা’ সিনেমায় ঋষভ শেঠি লেখক, পরিচালক এবং প্রধান অভিনেতা হিসেবে কাজ করেন। এ সিনেমার জন্য ৪ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৪০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে। এরপর সিনেমাটির প্রিক্যুয়েল ‘কানতারা টু’ নির্মাণ করেন। এ সিনেমায় তার পারিশ্রমিক ২৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে তার আয় ১০০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে; যা তাকে কেবল ইন্ডাস্ট্রির ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্লাবে নিয়ে যায়নি, বরং প্যান-ইন্ডিয়ায় জনপ্রিয় করে তুলেছে।
মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক ছাড়াও ঋষভ শেঠির প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে লভ্যাংশ শেয়ারের চুক্তি হয়েছে। বক্স অফিস পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত ৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন তিনি। এ হিসাব অনুযায়ী, ‘কানতারা টু’ সিনেমা থেকে আরো বেশি আয় করেন ঋষভ। সাধারণত, এ ধরনের লাভজনক চুক্তি ইন্ডাস্ট্রির ‘এ’ ক্যাটাগরির সবচেয়ে বড় তারকাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, প্রিক্যুয়েলটি বিশ্বব্যাপী ৮৪৫ কোটি রুপির বেশি আয় করে। ১২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেছে। শুধু ভারতে ৬২২ কোটি রুপির বেশি আয় করে এটি, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও উল্লেখযোগ্য টিকিট বিক্রি হয়।
‘কানতারা টু’ সিনেমা বৃহৎ পরিসরে নির্মিত হয়েছিল। বিশাল আয়োজনে সিনেমাটোগ্রাফি, উচ্চমাত্রার অ্যাকশন দৃশ্য এবং সমৃদ্ধ পৌরাণিক পটভূমি। এসবের সমন্বয়ে নির্মিত হয় সিনেমাটি। সিনেমাটির প্রযোজনা মানের বড় একটি উদাহরণ হলো—যুদ্ধের দৃশ্য। এ দৃশ্যে ৩ হাজার ক্রু সদস্য এবং ৫০০ জন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা অংশ নিয়েছিলেন।
ঋষভ শেঠির পরবর্তী সিনেমা ‘জয় জনুমান’। প্রশান্ত ভার্মা পরিচালিত এ সিনেমায় হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋষভ। তাছাড়া ‘দ্য প্রাইড অব ভারত: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজা’ শিরোনোম একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা।

