ঢাকা
২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৩৬
logo
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২২, ২০২৬

যে গান রেকর্ড করতে গিয়ে ১৫০ বার কাঁদেন গায়ক

কিছু সিনেমা মনে থাকে গল্পের জন্য, কিছু তারকাদের পারফরম্যান্সের জন্য, আর কিছু মনে গেঁথে যায় এমন সব গানের জন্য, যা কখনো পুরোনো হয় না। তেমনই একটি গান হলো—‘দুলহে কা সেহরা সুহানা লাগতা হ্যায়’। গানটি বলিউডের ‘ধাড়কান’ সিনেমায় ব্যবহারের পর তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২৬ বছর; আজও বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজে হৃদয় ছোঁয়া এই গান। বিস্ময়কর তথ্য হলো—রেকর্ডিংয়ের সময়ে গানটি গাইতে গিয়ে ১৫০ বার কেঁদেছিলেন গানটির গায়ক নুসরাত ফতেহ আলী খান।

ভারতের প্রখ্যাত গীতিকার সমীর অঞ্জন শ্রোতাপ্রিয় এই গানের রচয়িতা। এক সাক্ষাৎকারে গানটির পেছনের গল্প শুনিয়েছেন তিনি। এ সাক্ষাৎকারে সমীর অঞ্জন জানান, তারা যখন ‘ধাড়কান’ সিনেমার জন্য ‘দুলহে কা সেহরা’ গানটি রচনা ও রেকর্ড করেন, তখন নুসরাত ফতেহ আলী খান মুম্বাইয়ে ছিলেন। গানটি যৌথভাবে সুর করেন নাদিম-শ্রাবণ। সুরকার জুটি ও সমীর অঞ্জন গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য নুসরাত ফতেহ আলী খানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

সমীর অঞ্জন বলেন, “নাদিম–শ্রাবণ গায়ক নুসরাতকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন। তবে নুসরাত কেবল সেই গানই গাইতেন যে গানগুলোর সুর ও কথা তার হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিত।”

সানি দেওলের স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং হয়েছিল। সেই সময়ে নুসরাত ফতেহ আলী খানের সঙ্গে কাজ করতেন একজন ইংরেজ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। নুসরাত যখন গানটির ‘ম্যায় তেরি বাহোঁ কে ঝুলে মে পালি, বাবুল’ এই কথাগুলো গাইতে শুরু করেন, তখনই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার কারণে বারবার রেকর্ডিং বন্ধ করে নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল। প্রতিবার ওই লাইনে পৌঁছালেই কেঁদে ফেলতেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। গানটির পুরো রেকর্ডিং সেশনে এমন ঘটনা ১৫০ বার ঘটেছিল বলেও জানান সমীর অঞ্জন।

গানটি গাইতে গিয়ে নুসরাত ফতেহ আলী খান বার বার কেন কাঁদছিলেন? এ প্রশ্ন গায়কের কাছে করেছিলেন সমীর অঞ্জন। জবাবে বরেণ্য এই শিল্পী বলেছিলেন—“গানের এই লাইনগুলো তাকে তার কন্যাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। বিয়ের পর একটি মেয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।”

গানটির জন্য কত রুপি নিয়েছিলেন গায়ক?

ভারতের কাওয়ালি শিল্পী আলতাফ রাজার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন পরিচালক-প্রযোজক রাজীব বব্বর। পরে তার ‘শপথ’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন আলতাফ রাজাকে। সর্বশেষ সিনেমাটির গানে কণ্ঠ দেন এই শিল্পী। তার প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, পরিচালক-প্রযোজক রাজীব বব্বর তাকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছিলেন। এ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে এই শিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খানের পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ টানেন। তার ভাষায়—“ব্ল্যাঙ্ক চেকে আমি ৮০ হাজার রুপি লিখেছিলাম, ১ লাখও না। আমি আমার মা ও গুরুর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম। তারা বলেছিলেন, ‘তোমার কঠোর পরিশ্রমের যে মূল্য উপযুক্ত বলে মনে করো, সেটাই লিখে দাও।’ আমি যদি ৪ বা ৫ লাখ রুপিও লিখতাম, তবু তিনি অস্বীকৃতি জানাতেন না। সেই সময়ে ‘দুলহে কা সেহরা’ গানের জন্য নুসরাত ফতেহ আলী খান ৫ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।”

পরিচালক ধর্মেশ দর্শক নির্মাণ করেন ‘ধারকান’ সিনেমা। মিউজিক্যাল রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার এ সিনেমায় অভিনয় করেন অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেঠি। নব্বই দশকের শেষের দিকে এ জুটির প্রেম ছিল তুমুল চর্চার বিষয়। পত্রিকা আর সাময়িকীর পাতা খুললেই দুই তারকার প্রেম নিয়ে নানা কাহিনি চোখে পড়ত।

তবে ‘ধাড়কান’ সিনেমার শুটিংয়ে তাদের প্রেম ভেঙে যায়; যা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সিনেমাটির পরিচালক। ভেবেছিলেন, অক্ষয়-শিল্পার প্রেমের বিচ্ছেদ হয়তো তার সিনেমার ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে। তবে বাস্তবে তা হয়নি। বরং বক্স অফিসে হিট হয় সিনেমাটি। ২০০০ সালের ১১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। মাত্র ৯ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি ২৭ কোটি রুপি ব্যবসা করে। পাশাপাশি সিনেমাটির গানগুলোও জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটিতে অক্ষয়-শিল্পার বিয়ের দৃশ্যে ‘দুলহে কা সেহরা সুহানা লাগতা হ্যায়’ গানটি ব্যবহার করা হয়।

১৯৪৮ সালের ১৩ অক্টোবর পাকিস্তানের পশ্চিম পাঞ্জাবের লায়ালপুরে জন্মগ্রহণ করেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। তার আসল নাম পারভেজ ফতেহ আলী খান। ওস্তাদ ফতেহ আলী খানের পুত্র তিনি। ওস্তাদ ফতেহ আলী খান চাননি তার পুত্র কাওয়ালি গানের শিল্পী হোক। বরং তিনি চাইতেন ছেলে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা বেছে নিক। কারণ কাওয়ালি গানের শিল্পীদের সামাজিক মর্যাদা কম ছিল। তবে নুসরাত ফতেহ আলী খান কাওয়ালি গানকেই বেছে নেন; সময়ের সঙ্গে খ্যাতি কুড়ান এই শিল্পী। নুসরাত ফতেহ আলী খানকে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কাওয়ালি সংগীতশিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২০২৩ সালে রোলিং স্টোনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০০ সংগীতশিল্পীর তালিকায় ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে মারা গেছেন এই বরেণ্য শিল্পী।

*ডেইলি টাইমস, সিয়াসাত ডটকম, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram