

জাহিদুল ইসলাম রিফাত, জবি সংবাদদাতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে আয়োজনের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) বিকাল তিনটা বিশ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গতকাল ৫ নভেম্বর ২০২৫ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহুল প্রতীক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সেই তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে এক ধরনের উত্তেজনামূলক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উক্ত তফসিলে নির্বাচনের তারিখ হিসেবে ২২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনেকাংশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফলে, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, আমাদের এই প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে একটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল হিসেবে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যে সকল চাহিদা রয়েছে, তার বেশিরভাগই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের নেই আবাসন ব্যবস্থা, নেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নেই ভালো খাবারের আয়োজন। পুরান ঢাকার কষ্টসাধ্য পরিবেশেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দিনাতিপাত করছেন। আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, টিউশন গড়াতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে জোবায়েদ হত্যার ঘটনা খুব বেশি দিনের পুরনো নয়-যার বিচার দাবিতে এখনো আমাদের লড়তে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, গতকাল নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২২ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হবে না। ডিসেম্বর মাস বছরের শেষ সময়-যখন শিক্ষার্থীরা সারাবছরের একাডেমিক চাপ ও টিউশন শেষে বাড়ি ফিরে যায়। এমন সময়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন না। ফলে, নির্বাচনের জন্য এমন সময় নির্ধারণের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে ভোটারদের অংশগ্রহণ সীমিত করা। একই সঙ্গে, এটিও উল্লেখ করা জরুরি যে ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করতে পারে বলে বিশিষ্টজনেরা আশঙ্কা করছেন। অতএব, এমন সময়ে জকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ আমরা লক্ষ্য করছি না।
তারা দাবি জানান, একটি সুস্থ ও সর্বোচ্চ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে থাকবে। কারণ, প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন, যা সংকটে জর্জরিত এই ক্যাম্পাসের ভাগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখে।

