

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক সাজু সরকারকে খাতা ছুড়ে মারার কারণে উক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন তিনি। সোমবার (৩ নভেম্বর) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার মানসিক সমস্যা ছিল।
আবেদনপত্রে অধ্যাপক সাজু সরকার উল্লেখ করেন, ‘গত ১৫ মে বিভাগের ৫১৮ নম্বর কক্ষে ২০২১–২২ ও ২০২২–২৩ সেশনের (বিবিএ তৃতীয় ও দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার ২০২৪) শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরুর আগে রোল কল নেওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।’
আবেদন পত্রে বলা হয়েছে, ‘রোল কলের এক পর্যায়ে ২২১২৫৩৮১৩১ নম্বর রোলধারী শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান মীমকে ডাকলে তিনি প্রথমে চুপ করে বসে থাকেন। পুনরায় ডাকলে তিনি হঠাৎ করে খাতা ছুড়ে মারেন।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সহপাঠীরা মীমকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, তার হাতের বড় নখ থেকে সাবধান থাকতে। তখন মীম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার হাতে নখ, তো তোর কী?’
অধ্যাপক সাজু সরকার অভিযোগপত্রে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত মীমের বন্ধু আবিদ বিন আনাম বিষয়টিকে ‘জিনের আঁচড়ের সমস্যা’ বলে দাবি করেন এবং ইউটিউব থেকে উচ্চ শব্দে কিছু বাজাতে শুরু করেন। তবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে।’
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান মীম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমার মানসিক সমস্যা ছিল। এটি দুই-তিন মাস আগের ঘটনা। মানসিক সমস্যার কারণে এমন আচরণ করেছিলাম, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। এখন এতদিন পর তিনি অভিযোগ করায় মনে হচ্ছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মানহানি করতে চাইছেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি, যেখানে বলা হয়েছে শিক্ষার্থী তার বিভাগের শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে। তবে একপক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। আমরা শিক্ষার্থীর সাথেও কথা বলব, এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে ওই ছাত্রী একই বিভাগের আরেক শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন সেই শিক্ষকের স্ত্রী। তাসনিম জাহান মীম বর্তমান ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

