ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 29, 2026

বিরামপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ১০ বছরের স্বপ্ন, এক রাতেই নিঃস্ব দুই ব্যবসায়ী

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: এক রাত আগেও যেখানে ছিল মানুষের আনাগোনা, খাবারের ব্যস্ততা আর জীবিকার স্বপ্ন, সেখানে এখন পোড়া ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই পুড়ে গেছে দীর্ঘ ১০ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা একটি বাবুর্চি হোটেল। আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি পাশের একটি পানের দোকানও। চোখের সামনে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পুড়ে যেতে দেখে এখন দিশাহারা দুই ব্যবসায়ী। তাঁদের চোখেমুখে অনিশ্চয়তা—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, কীভাবে চলবে সংসার?

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবাণী ইউনিয়নের কেটারাহাট এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাবুর্চি হোটেল ও পাশের পানের দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, দুই দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হতে পারে।

হোটেলটির মালিক শহিদুল ইসলাম। তিনি জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে। প্রায় ১০ বছর ধরে পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর এই ব্যবসা। কেটরাহাটে প্রতি বৃহস্পতিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক বড় হাট বসে। হাটের দিন দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষসহ স্থানীয় অনেকেই তাঁর হোটেলে খাওয়াদাওয়া করতেন। গরুর মাংস, হাঁসের মাংসসহ নানা ধরনের খাবার, মিষ্টি ও দই পাওয়া যেত সেখানে। প্রতিটি হাটবারে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার বেচাকেনা হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

কিন্তু সেই ব্যস্ত হোটেলটিই এখন পুড়ে ছাই। বৃহস্পতিবারের হাটকে সামনে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা মাংস, রান্না করা খাবার, ফ্রিজ, ফ্যান, রান্নার সরঞ্জাম, আসবাবপত্রসহ হোটেলের প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। যে হোটেল থেকে প্রতিদিন চলত সংসারের চাকা, সেই হোটেলই এখন নিঃস্বতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের শ্রম, সঞ্চয় আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সবকিছু যেন এক রাতেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শহিদুল ইসলামের হোটেলের পাশেই ছিল গোপাল চন্দ্র মহন্তের পানের দোকান। তিনিও জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের পাথোহাট এলাকার কালা চাঁন মহন্তের ছেলে। আগুনের তাপে ও শিখায় তাঁর দোকানের পান-সুপারি, বিস্কুট, অন্যান্য বিক্রয়সামগ্রী ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

একটি দোকান ছিল খাবারের ভরসা, অন্যটি ছিল ছোট্ট ব্যবসায়ীর উপার্জনের অবলম্বন। কিন্তু আগুনের তাণ্ডবে দুই দোকানের মালিকই এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো সামর্থ্য তাঁদের কতটুকু আছে, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে বিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার প্রায় ৪০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই দোকান দুটির অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায় বলে তাঁদের দাবি। আগুনের উৎস ও ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠে তাঁদের নতুন করে ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে পরিবার দুটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram