

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি: "বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪শত ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, ট্রেডক্রাফট এক্সচেঞ্জের কারিগরি সহযোগিতায় এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট সংস্থা (আরডিএস)-এর বাস্তবায়নে SWABOL প্রকল্পের আওতায় শ্রীবরদী উপজেলায় “জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং কমিউনিটি ভিত্তিক বনায়ন ও পুনঃবনায়ন” বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
SWABOL প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক স্বপন স্কু'র সঞ্চালনায় কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এটিএম ফয়জুল রাজ্জাক আকন্দ এবং মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাত জাহান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি পণ্য উৎপাদক সমবায় সমিতির সভাপতি সবুর আহমেদ, সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর হাসান দুলাল এবং কোষাধ্যক্ষ একলাস উদ্দিন আহমেদসহ কমিটির ১১ সদস্য। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশ নেন।
এ সময় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ, কমিউনিটি ভিত্তিক বনায়ন ও পুনঃবনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
শ্রীবরদী উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কমিউনিটির LFO সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০টি করে চারা প্রদান করা হয়। বিতরণকৃত চারার মধ্যে ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, অর্জুন, নিম ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
