ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 27, 2026

ময়মনসিংহে নিরঞ্জন ধর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেফতার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ সদর থানাধীন বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকায় ড্রামে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI), ময়মনসিংহ জেলা। একই সাথে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি শামীম মিয়া (৩৮) কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর’২৬ সকাল অনুমান সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ সদর থানাধীন বেগুনবাড়ী স্লুইস গেটে পানির নিচে ড্রামের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নিহতের পরিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে লাশটি নিখোঁজ স্বর্ণের কারিগর ও অটোরিকশা মালিক নিরঞ্জন ধর (৫৪)-এর বলে শনাক্ত করেন।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর মামলা নং-৮৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা স্বউদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া।

ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ময়মনসিংহের একটি বিশেষ টিম পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের সার্বিক সহযোগিতা, উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ সেপ্টেম্বর’২৬ রাত অনুমান সাড়ে ১২টায় গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলার সর্দার মার্কেট এলাকা থেকে প্রধান আসামি শামীম মিয়া (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। তার পিতার নাম মোঃ জালাল মিয়া, সাং-কৃষ্টপুর, থানা-কলমাকান্দা, জেলা-নেত্রকোণা; এ/পি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার গলগন্ডা গ্রামস্থ কেরানীবাড়ী সংলগ্ন জনৈক কাওছারের বাসার ভাড়াটিয়া। সে সেখানে তার শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিল।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে নিরঞ্জন ধরকে নৃশংসভাবে খুন করার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার পুরো বিবরণ দেয়। তার দেয়া তথ্য মতে ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত নিরঞ্জন ধরের চারটি অটোরিকশা ছিল, যা তিনি খাগডহর এলাকার 'সততা গ্যারেজে' রাখতেন। আসামি শামীম ওই গ্যারেজের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিরঞ্জন ধর নিয়মিত শামীমের বাসায় যাতায়াত করত। শামীমের বাবা-মা বাসায় না থাকার সুযোগে শামীম তার ভাড়া বাসায় মেয়ে নিয়ে এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। একদিন শামীমের অসতর্কতার সুযোগে নিরঞ্জন ধর একটি আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে শামীমকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল ও টাকা দাবি করতে থাকেন।

গত ২১সেপ্টেম্বর. বিকালে শামীম তার ভাড়া বাসায় একা ঘুমানোর সময় নিরঞ্জন ধর সেখানে গিয়ে আবার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা পাটার শিল দিয়ে নিরঞ্জন ধরের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। নিরঞ্জন মাটিতে পড়ে গেলে চিৎকার বন্ধ করতে শামীম তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দেন এবং পরবর্তীতে বটি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ডের পর শামীম লাশটি প্রথমে একটি চটের বস্তায় বেঁধে চালের ড্রামের ভেতরে ভরে তার বাসায় রাখে। পরবর্তীতে গত ২২ সে্প্টম্বর’২৬ রাত অনুমান ৮টায় একটি মিশুক (ইজিবাইক) এনে ড্রামটি তুলে নিয়ে বেগুনবাড়ী স্লুইস গেটের পানিতে ফেলে দিয়ে আসেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা, এসআই (নিঃ), মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া, জানান, অদ্য ২৭ সেপ্টেম্বর’২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৭ টায় গ্রেফতারকৃত সন্ধিগ্ধ আসামী শামীমের দেখানোমতে তার ভাড়া বাসা হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হোতা (শিল) ও বটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়া এই নৃশংস ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্তে নামে। পিবিআই ময়মনসিংহের সকল অফিসার ও ফোর্সের আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্টা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে মূল হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram