

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অশোক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও সুযোগ সুবিধা দেয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল সদর উপজেলার বকশী গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক রমেশ অধিকারীসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অশোক বিশ্বাস একজন দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর অফিসার। তিনি নড়াইল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে যোগদান করার পর থেকেই ঘুষ, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে রোববার নড়াইল জেলা ও সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, তিনি উৎকোচের বিনিময়ে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেয়া, মিথ্যা মামলা দেয়া ও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নড়াইল জেলা যুব-উন্নয়ন অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন জেলা মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অশোক কুমার বিশ্বাস গত অর্থ বছরে নড়াইল সদর উপজেলায় শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মন্দিরের নামে এক মেট্রিকটন (১০০০ কেজি) জিআর এর চাল উত্তোলন করেছেন। অথচ উপজেলায় এ নামে কোনো মন্দিরের অস্তিত্ব নেই।
অশোক কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগে আরও জানা গেছে, মতুয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন লোকের নিকট থেকে সরকারি অনুদান ও মন্দিরে জিআর বরাদ্দের লোভ দেখিয়ে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সহজ সরল মতুয়া সম্প্রদায়ের ভক্তদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে চলেছেন। এছাড়াও সহজ সরল মানুষকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এসকল অভিযোগ উল্লেখ করে রোববার সকালে মতুয়া মিশনের নেতা ও নড়াইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অশোক কুন্ডুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ নড়াইল জেলা যুব-উন্নয়ন অধিদপ্তরে দেয়া হয়েছে। একই সাথে এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
নড়াইল জেলা মতুয়া মিশনের সভাপতি অসিম কুমার পাল জানান, অশোক কুমারের বাড়ির একটি কক্ষে পূজার্চনা করা হয়। অথচ একটি মন্দিরের নাম ব্যবহার করে তিনি এক মেট্রিকটন চালের টাকা তুলে নিয়েছেন। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিসহ ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে চলেছেন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরী।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অশোক কুমার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করলে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মহাসংঘের সভাপতি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল বিভন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নড়াইল জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মনিরুজ্জামান অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
