ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 6, 2026

শরতের শুভ্রতায় মুগ্ধ শ্রীমঙ্গলের কাশবন, ছুটছেন পর্যটক

সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: শরৎ মানেই কাশফুল। শরতের আগমনে নীল আকাশ, সাদা মেঘ, সবুজ চা-বাগান আর বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলে নতুন রূপে সেজেছে পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী এলাকায় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড়জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবন এখন পরিণত হয়েছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে।

প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়ার পাড় ও বালুচর ঘেঁষে ফুটে থাকা কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে নীল আকাশ, সাদা মেঘ ও সবুজ চা-বাগানের মেলবন্ধন তৈরি করেছে অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। বাতাসে দোল খাওয়া সারি সারি কাশফুল দেখতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ভুরভুুরিয়া ছড়ার দুই পাড়জুড়ে বিশাল কাশবন বাতাসে দুলছে। কোথাও সবুজ চা-বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে শুভ্র কাশফুল, আবার কোথাও ছড়ার পাড়জুড়ে সাদা ফুলের সমারোহ।

কাশবনের ভেতর কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে ছুটে আসছেন। অনেকেই সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করছেন শরতের নির্মল সৌন্দর্য।

চাঁদপুর থেকে বেড়াতে আসা হালিমা শেখ বলেন, চা-বাগানের সবুজ আর কাশফুলের শুভ্রতা একসঙ্গে দেখে তিনি মুগ্ধ। এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এসে তার খুব ভালো লেগেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসা ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন বলেন, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের সৌন্দর্য তিনি আগেও শুনেছেন। তবে কাশফুলের এমন বিস্তৃত আয়োজন দেখে তিনি অভিভূত। পরিবারের সবাই মিলে এখানে সময় কাটিয়ে ভালো লাগছে।

সিলেট থেকে আসছেন মো: সিদ্দেকুর রহমান। তিনি বলেন, শরৎকালে বাংলার প্রকৃতিতে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই শ্রীমঙ্গলে এসেছেন।

এখানে ছড়ার পাড়জুড়ে বিশাল কাশবন প্রকৃতিপ্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই কাশফুলগুলো অনেকেই ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা ঠিক না।

স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা বলেন, দিগন্তজোড়া কাশফুলের দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। শরৎ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণেরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

সাধারণত নদী, ছড়া কিংবা জলাশয়ের তীরে এটি বেশি জন্মে এবং প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বর্ষা শেষে শরতের আগমনে কাশফুল প্রকৃতিতে সাদা শুভ্রতার আবহ তৈরি করে।

স্থানীয়রা জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এ অঞ্চলে কাশফুল ফুটতে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বরজুড়ে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি থাকে।

প্রাকৃতিক এই কাশবন রক্ষায় দর্শনার্থীদের কাশফুল না ছেঁড়া, ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। তাদের প্রত্যাশা, দর্শনার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণে শ্রীমঙ্গলের এই প্রাকৃতিক কাশবন টিকে থাকবে এবং প্রতি শরতে প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram