ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 2, 2026

মাদ্রাসায় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাভারের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবন শুরু করতে না করতেই সাত বছরের এক শিশু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন তার বাবা।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শিশুটি প্রথম নির্যাতনের শিকার হয়। এরপর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী শিশুটিকে নির্যাতন করে। পরে যেসব শিক্ষকের কাছে সে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল, তারাও সুযোগ নিয়ে তাকে নির্যাতন করেছে এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, টানা কয়েক মাসের নির্যাতনের পর তার ছেলে এখন বাসায় অস্বাভাবিক আচরণ করছে, প্রায়ই কান্নাকাটি ও চিৎকার করছে। বিষয়টি জানার পর তারা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

গত ২৩ আগস্ট ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মাদ্রাসাটির মুহতামিম জিয়া ইবনে কাসেমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন শিশুটির বাবা। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি সাভার মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই সামরুল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

মামলায় জিয়া ইবনে কাসেম ছাড়াও মাদ্রাসাটির দুই শিক্ষক, দুই হাফেজ এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। আসামি দুই শিক্ষক হলেন মক্তব বিভাগের প্রধান ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন। এছাড়া হাফেজ সাব্বির ও হাফেজ কামরুজ্জামানকেও আসামি করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পর ২৭ আগস্ট সাভার থানা মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপন করে। ওই দিন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমদ তা গ্রহণ করে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বাহাজ উদ্দিন বলেন, একই দিনে শিশুটি আরেক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটির কাছে ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার না হলে আসামিরা পালিয়ে যেতে পারেন।

অন্যদিকে মামলার আসামিদের একজন ও মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া ইবনে কাসেম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমি আসলে দেশের বাইরে ছিলাম। তাবলীগ শেষ করে ফিলিপিন্স থেকে এসেছি। মামলার বিষয়ে আমিও শুনেছি। আমাকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

“দেখি বিষয়টা কী হয়। ওরা ছোট ছোট বাচ্চা। নিজেরা নিজেরা এগুলো করে। এখানে কোরআন, হাদিস শেখানো হয়, দ্বিনী প্রতিষ্ঠান। কেউ মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কি না- আমরাও সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রকৃত অপরাধী থাকলে তারা যেন বের হয়ে আসে।”

মাদ্রাসার অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে পরে পরিচালকের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

শিশুটির বাবা বলেন, “আমার ছেলেটা নিজ আগ্রহে বড় মাদ্রাসায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু ভর্তি হওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সবকিছু বদলে যায়।”

মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করেছে এবং মাদ্রাসার আরও অনেক শিক্ষার্থীও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: বিডি নিউজ

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram