

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামে বটগাছের নিচে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা। বলেশ্বর নদের পাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষানুরাগী জহর লাল সরকার।
বটতলার একটি ছোট্ট টিনের ছাউনিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে পরম মমতায় পাঠদান করছেন তিনি। শুধু পড়ালেখাই নয়, নিজ খরচে শিশুদের হাতে খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় নানা শিক্ষা উপকরণও তুলে দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, রানাপাড়া গ্রামটির অধিকাংশ পরিবারই অসচ্ছল। এলাকায় কাছাকাছি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছোট্ট শিশুদের অনেক দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হতো। বিশেষ করে রোদ-বৃষ্টির দিনে দুরের স্কুলে যাওয়া তাদের জন্য ছিল বেশ কষ্টকর। শিশুদের এই দুর্ভোগ লাঘব করতেই ২০২৩ সালে এ পাঠশালার সূচনা করেন জহর লাল সরকার।
উল্লেখ্য, তিনি ২০২২ সালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসরে যান। তাঁর বাবা প্রয়াত যতীন্দ্র নাথ সরকারও এলাকায় শিক্ষা প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। বাবার সেই মহতী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলায় জহর লাল সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুধী সমাজ।
তবে ব্যতিক্রমী এই পাঠশালাটি বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি। ছোট্ট টিনের ছাউনিটি বর্ষায় চুইয়ে পানি পড়ে, ফলে বৃষ্টি হলেই পাঠদান বন্ধ করে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয়। পাশাপাশি বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কোমলমতি শিশুদের পাঠশালায় আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জহর লাল সরকার বলেন, "আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। যতদিন পারি, তাদের পাশে থাকতে চাই।" বটতলার এই আলোকময় উদ্যোগটিকে টিকিয়ে রাখতে ও এগিয়ে নিতে তিনি সরকার, সমাজের বিত্তবান এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
