

ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী মজিবর রহমান বাঁচতে চান। তার পুরো শরীর আলুর মতো গোল হয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড ব্যথায় শুধু কাতরাচ্ছেন তিনি। মজিবর রহমান নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দমদমা গ্রামের বাসিন্দা। তার বর্তমান বয়স ৭৫ বছর।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মজিবর রহমান পেশায় একজন চা বিক্রেতা। দীর্ঘদিন থেকে তিনি চা বিক্রি করে একদিকে সংসার চালাতেন, অপরদিকে তার প্রাণপ্রিয় সংগঠন আত্রাই থানা বিএনপির জন্য অর্থ ব্যয় করতেন। দলের দুর্দিনেও তিনি থেমে থাকেননি। সাধ্যমত অর্থ ব্যয় করে থানা বিএনপির যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করেছেন। রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি আহসানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে মজিবর রহমান মারাত্মক ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার পুরো শরীরে বাসা বেঁধেছে এক জটিল রোগ। যার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। তার পুরো শরীর আলুর মতো গোল হয়ে ফুলে উঠছে। এর প্রত্যেকটিতে রয়েছে প্রচণ্ড ব্যথা। এ রোগের চিকিৎসা করার মতো অর্থ পরিবারের কাছে না থাকায় মজিবর রহমান এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মজিবর রহমানের ছেলে নাসির উদ্দিন ও ময়ন উদ্দিন বলেন, আমাদের পিতার শরীরের এ রোগ প্রায় ৪০ বছর পূর্বে দেখা দেয়। তখন থেকেই বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে রোগের বিস্তার ঘটেছে। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় অর্থাভাবে পিতার মানসম্মত চিকিৎসা করাতে পারছি না।
উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, মজিবর রহমান আমাদের দলের (বিএনপি) একজন ত্যাগী নেতা। তিনি চা বিক্রির অর্থ দ্বারা একদিকে সংসার চালিয়েছেন, অপরদিকে দলের জন্যও তিনি অর্থ ব্যয় করেছেন। আজ তার এ করুণ মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো আমাদের উচিত।
উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম জানান, রাজনীতিতে মজিবর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত বিরল। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর এই চরম অর্থসংকট ও অসুস্থতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যুবদলের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াবো। এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাসলিম উদ্দিন বলেন, মজিবর রহমান বিএনপির একজন পরীক্ষিত সৈনিক। তিনি দলের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। আজ তিনি যে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, আমরা সাধ্যমত তাকে সহযোগিতা করব। একই সাথে সমাজের প্রত্যেক বিত্তবানকে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবি, যে মানুষটি সারাজীবন নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দল ও সংগঠনের জন্য কাজ করে গেছেন, এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানো দলের নৈতিক দায়িত্ব। তারা অনতিবিলম্বে এই ত্যাগী নেতার সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
