

রশিদুল ইসলাম, কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয়, শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। কাহারোল উপজেলা সফরকালে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে তিনি শিক্ষা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দেন।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে কাহারোলে গরুর হাট স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে একটি বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর দিকে তাঁর নজর যায়। শিশুটিকে কাছে ডেকে তিনি জানতে চান, “তুমি কি স্কুলে যাও?” জবাবে শিশুটি জানায়, সে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও সেদিন স্কুলে যায়নি।
কেন বিদ্যালয়ে যায়নি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটি কোনো উত্তর দিতে পারেনি। তখন জেলা প্রশাসক উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, “বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধ করতে হবে। তা নাহলে এভাবেই একে একে শিশুরা শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।”
এরপর তিনি কোনো বিলম্ব না করে শিশুটিকে নিজের সরকারি গাড়িতে তুলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
স্থানীয়দের মতে, একজন জেলা প্রশাসকের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু একটি শিশুকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি শিক্ষা বিস্তারে সমাজের সকল স্তরের মানুষের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী বার্তা। তারা মনে করেন, প্রশাসনের এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং ঝরে পড়া রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি একজন শিক্ষানুরাগী ও মানবিক মানুষের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম, কাহারোল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেলিমুর রহমান সেলিম, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুজ্জামান লিমন প্রমুখ।
