

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ সেতু সংলগ্ন একটি বস্তির জীর্ণশীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ফেলি (২০)। জন্ম থেকেই অবহেলা, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর জীবন আজও সংগ্রামের আরেক নাম।
সম্প্রতি বাজারে দেখা হয় ফেলির সঙ্গে। কুশল জানতে চাইলে মৃদুস্বরে সে জানায়, "ভালো নেই রে ভাই, হাতটা পুড়ে গেছে।" সারাদিন কী খেয়েছে জানতে চাইলে বলে "চা-রুটি।"
ফেলির ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা হালিমা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। হাঁটাচলা করতে পারেন না। ফেলির ভিক্ষা করে আনা সামান্য টাকাতেই চলে মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ। নিজের আয়ের হিসাবও সে রাখতে পারে না। কত টাকা হয়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, "আমি গুনতে পারি না, মা গুনে দেয়।"
বাজার করার দায়িত্ব পালন করেন তার ভাই নিজাম, যিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং দূরের হাজরা এলাকার একটি গ্রামে বসবাস করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেলির মা একস ময় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ কর তেন। সেই সময় কোনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জন্ম হয় ফেলির। নিজের বাবার পরিচয় আজও জানে না সে।
সমাজের অবহেলা আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তব তায় বেড়ে ওঠা এই তরুণী কখনো পায়নি একজন বাবার স্নেহ কিংবা নিরাপত্তা। আজও ফেলির জীবন সমাজের করুণার ওপর নির্ভরশীল। অথচ অসহায় নারী ও পথশিশুরা নানা সময়ে নির্যতন, শোষণ ও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকে। তার সাহায্য কেউ এগিয়ে আসে না।
তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব বলে উপজেলার অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
