ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 20, 2026

যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কে ভাঙন, যানবাহন চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে তীব্র স্রোতের কারণে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রোববার বিকেল থেকে গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া যমুনা নদীর ২৫ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়। এতে ওই সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বিভিন্ন জায়গা দিয়ে চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে সাখারিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে চলছে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা। এসময় নদীর স্রোত কমাতে সড়কের পাশে গাছের বড় বড় ডালপালা ও গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি কেবল সাময়িক উদ্যোগ। স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয় ও জনভোগান্তি।

স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত রহমান জানান, কয়েকদিন ধরেই যমুনার তীব্র স্রোত ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশ বিলীন হচ্ছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরো বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল- তারাকান্দি-ভূঞাপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয়রা বলেন, মাসখানেক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে এলাকায়। প্রথমেই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হলে এমন পরিস্থিতি হতো না। সড়কটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ বন্ধসহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজারও পরিবার। রোববার বিকেল থেকে সড়কের পাশ থেকে ধসে যাচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষিকা ময়না বলেন, কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একটি স্থায়ী বাধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, এই সড়কটি ভেঙ্গে গেলে টাঙ্গাইলের উত্তর এলাকার ২০/২৫টি গ্রাম তলিয়ে যাবে। এতে করে লাখ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়বে। যতদ্রুত সম্ভব এই বাঁধ রক্ষা করতে হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “আপাতত তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব জায়গা সংস্কার করা দরকার, সেগুলো সম্পন্ন করা হবে। আর তা করলেই এই সড়কটি পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে।”

টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram