

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন শত শত নিরাপত্তাকর্মী। নগরবাসীর নিরাপদে অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করলেও নিজেদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
নগরীর জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর, খুলশী ও বন্দর এলাকার বিভিন্ন এটিএম বুথে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই টানা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মাস শেষে বেতন তুলনামূলক কম হলেও দায়িত্বের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। রাতের নির্জনতায় ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা দুর্বৃত্তদের হামলার আশঙ্কা নিয়েই তাদের কাজ করতে হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অতীতেও এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “সারা রাত একা একটি বুথ পাহারা দিতে হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথম আঘাতটা আমাদের ওপরই আসে। কিন্তু বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সেই ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
আরেক নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, “অনেক সময় ঈদ, পূজা কিংবা সরকারি ছুটিতেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে না। তারপরও চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছি।”
শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জীবনবিমা, ঝুঁকি ভাতা, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে যেমন কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়বে, তেমনি ব্যাংক ও গ্রাহকদের নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের অনেক এটিএম নিরাপত্তাকর্মী দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম বেতন এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকদের মতে, ব্যাংকিং সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করা এসব নিরাপত্তাকর্মীদের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ, যারা অন্যের অর্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলস প্রহরী, তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
