

মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবৈধ জাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানে ৫২টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সূত্র জানায়, অভিযানে প্রায় ২৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৫২টি চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইলেকট্রোফিশিং বন্ধকরণ এবং জলাশয়ে অবৈধ বাঁধ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা অপসারণেও এ সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন মিঠামইন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। এসময় তাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে নৌ-পুলিশ মিঠামইন ফাঁড়ির সদস্যবৃন্দ ও মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্রসহকারীগণ।
জব্দকৃত জালগুলো মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংস কার্যক্রমের আগে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং অবৈধ উপায়ে মৎস্য শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চায়না দুয়ারি জাল মাছের পোনা ধ্বংস করে মৎস্য ভাণ্ডারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। জনস্বার্থে এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল ব্যবহারকারী এবং জলাশয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
