ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 22, 2026

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ জনের মরদেহ নিতে বেনাপোলে স্বজনের অপেক্ষা

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচ জনের মরদেহ আজ দেশে আসছে। দুদেশের কূটনীতিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর নাগাদ পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে। মরদেহগুলো গ্রহণ করতে ইতোমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোলে অশ্রুসিক্ত নয়নে অপেক্ষা করছেন নিহতের স্বজনেরা।

এর আগে, গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসছে। তারা হলেন-কুষ্টিয়া সদরের সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী ও সাভারের জোবায়ের বাবু। ইতোমধ্যে নিহত বাংলাদেশিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষের দিকে।

জানা যায়,সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু অগ্নিকান্ডের দুদিন আগে কলকাতায় চিকিৎসার কাজে গিয়েছিলেন। তিনিও মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঐ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। তার মরদেহ নিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোলে এসেছেন বাবুর বড়ভাই মোহাম্মাদ আলী।

তিনি জানান, গতকাল বিকেলে ভাইয়ের মরাদেহ নিতে বেনাপোলে আসি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্র জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার ভোরে আসার কথা থাকলেও শুনছি দুপুর নাগাদ মরদেহ হাতে পাব।

এদিকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যদের মরদেহ আনতে দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতায় রয়েছেন। এছাড়া কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্জয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। তাদের মরদেহ নিতে কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক ও স্বজনেরা বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ দাফন করা হবে।

দীর্ঘ নয় বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন দেবাশীষ। ধর্মীয় ভিন্নতায় তাদের সংসার জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই দম্পতির এখন বেঁচে থাকলো ১০ বছর বয়সী কন্যা সন্তান।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আসবে। নিহত আরেক বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় সৎকার করা হবে ভারতেই।

এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ফেরদৌস হোসেন বলেন, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তবে মরদেহবাহী গাড়ি বেনাপোলে ঠিক কখন পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানান ওসি।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram