

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫। রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজারের রামু উপজেলার উখিয়ারঘোনা (গনিয়াকাটা) এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর পাহাড়তলী এলাকায় আসিফ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় নিহত আসিফের বাবা মো. ইসমাইল বাদী হয়ে ৫ জুন কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৫-এর সদর ব্যাটালিয়নের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি জিয়া রামু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াউর রহমান জিয়া কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী (ইসলামপুর) এলাকার মৃত নজির আহমেদের ছেলে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে রামুর পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার অপরাধমূলক রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় বর্তমান জোড়া হত্যা মামলাসহ আরও দুটি হত্যা মামলা ও একটি মাদক মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আলামতসহ কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
