

মোহাম্মদ আলী, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১১ বছর বয়সী আফরিন নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি মো. ফয়সাল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত টংকপাড়া এলাকায় টানা ৭২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ফয়সাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।
নিহত আফরিন আক্তার কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা ও আমানবাজার এলাকার ভাড়া বাসায় থাকা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার বিবরণ ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ আফরিনের মা আমেনা বেগম ঘরে না থাকার সুযোগে একই কলোনির বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি তুলার গুদামের কেয়ারটেকার ফয়সাল শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পর শিশুটি চিৎকার করলে ফয়সাল ও তার এক সহযোগী মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে শিশুটির চোখ উপড়ে মুখমণ্ডল বিকৃত করে দেওয়া হয় এবং লাশ তুলার বস্তার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ২৮ মার্চ পুলিশ ওই গুদাম থেকে আফরিনের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে ফয়সাল খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন করছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রূপন নাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এই বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করছে। ফয়সালের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার অপর এক সহযোগীর নাম ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে নিহত আফরিনের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

