ঢাকা
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:০০
logo
প্রকাশিত : মে ১৪, ২০২৬

দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে নবীনগরের আলীয়াবাদ বিলের খাল

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলীয়াবাদ বিলের খাল দখল আর খননের অভাবে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ইরি বোরো ধানের মৌসুমে বিলের পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় তলিয়ে যায় কৃষকের সোনালী ধানের জমি। বিপরীতে শুকনো মৌসুমে পানি না থাকায় সেচ কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ এলাকার কৃষকদের। উপজেলার শ্রীরামপুর মৌজার ২৪৫ দাগের ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত খালটি জেলা এল এ শাখায় কুট্টা পাড়া ফিসারী জল মহল হিসেবে পরিচিত। ম্যাপে ২ হাজার ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৬০ থেকে ১০০ ফুট প্রস্ত থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- তিন চার ফুট প্রস্তের একটি ড্রেনের।

জানা যায়, বুড়ি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে আলীয়াবাদ গ্রামের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত খালটি ভাটা নদীতে গিয়ে মিশেছে। স্থানীয় সার্ভেয়ারের মাধ্যমে ম্যাপ পরিমাপ করে দেখা যায়, শত বছরের পুরনো খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ ফুট, প্রস্থ ৬০ থেকে ৮০ ফুট, কোন জায়গায় আবার ১০০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত। বিগত কয়েক যুগ যাবত এ খালটি খনন না হওয়ার সুযোগে অবাধে দখল, জমির সমান্তরালে ভরাট করা হয়েছে। ফলে এ খাল তার নিজস্ব পরিচয় হারিয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে পানি চলাচল, সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নষ্ট হয়ে যায় ফসল।

আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান বলেন, আমার আব্বা বারো মাস এই খাল থেকে মাছ ধরতেন, ছোট সময় আমরাও মাছ ধরতে যেতাম, সাঁতার কাটতাম। খালের পাড়ে অনেকেই গরু চড়াতেন, গরুকে গোসল করাতেন। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই খালের সাথে। এখন দেখে বোঝার উপায় নেই, এখানে এক সময় খরস্রোতা খাল ছিল।"

আলীয়াবাদ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ জহিরুল হক সর্দার বলেন, "আলীয়াবাদ, মাঝিকাড়ার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল এই খাল। সংগ্রামের আগে করিম চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একবার খনন কাজ হয়েছিল। এরপর ভালভাবে এ খাল খনন না হওয়ায় মাটি দ্বারা জমির সমান্তরাল করে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় শুনতে পাই, কেউ কেউ নাকি খালের জায়গা লিজ এনেছে।"

আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বসু ও হুমায়ুন কবির বলেন, "চলতি মাসের কালবৈশাখী ঝড়ে ও টানা বৃষ্টির সময় খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে, অসংখ্য জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে অনেক জমি অনাবাদি রয়ে যায়, এমন পরিস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ ও পুনঃখননের মাধ্যমে খালের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এমপি সাহেব ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।"

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর বলেন, "খালের জায়গা লিজ দেওয়ার কোন বিধান নেই। কেউ যদি বলে থাকে লিজ নিয়েছেন, তাঁরা লিজের প্রমাণপত্র নিয়ে আসুক। তখনই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।"

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "আলীয়াবাদ বিলের খালটি খননের অভাবে ভরাট হয়ে দখল হয়ে গেছে, তথ্যটি এই প্রথম আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি চলমান খাল খনন কর্মসূচির তালিকায় অন্তর্ভুক্তিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram