

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: ভারী বৃষ্টিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি জমে গেছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।
গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বহু ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধানসমূহ পানিতে ডুবে গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাটা ধানের পাড়াগুলো পানিতে ভাসছে। আর যেসব ধান এখনো কাটা হয়নি, সেগুলো পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার হাতিয়ায় প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে, অবশিষ্ট অর্ধেক এখনো মাঠে রয়েছে। বর্তমানে সবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক জুয়েল বলেন, ঋণ করে প্রায় ২ একর বর্গা জমিতে বোরোধান চাষ করেছি। এখন যা কেটেছি তা পানিতে ভাসছে, আর বাকিগুলো ডুবে রয়েছে। পাশের বাড়ির লোকজন গরু দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলছে।
একই এলাকার হাজি খবির উদ্দিন জানান, নিজের প্রায় ৫ একর জমিতে চাষ করেছি। অর্ধেক কাটা হয়েছে, বাকি অর্ধেক এখনো মাঠে। কাটা ধানগুলো পানিতে ভাসছে।
শাহীন আলম প্রায় ৪ একর জমিতে চাষ করেছেন। তার অবস্থাও একই।
পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের নাজমুল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, তার প্রায় ৪০ একর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। কিছু নিজে চাষ করেছেন, বাকিগুলো বর্গা চাষীদের মাধ্যমে। মার্কাজ মসজিদের পূর্ব পাশে এবং ওছখালী বাজারের উত্তর পাশে চাষ করা জমির প্রায় সব ধান পানিতে নিমজ্জিত। এতে তার এবং চাষীদের সীমাহীন ক্ষতি হবে, যা পুষিয়ে ওঠা কঠিন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র পাল জানান, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খবর পাওয়া গেছে, বোরো ধানের অধিকাংশ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পুরো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং তা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক প্রেসনোটে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

