

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা হাসপাতালে হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ ও জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, জেলার হাম সংক্রমণের হটস্পট শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও সদর উপজেলায় এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলো। এ কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার টিকা পাওয়া গেছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের এই টিকা দেয়া হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার ৩টি উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৩৯ টি টিকা কেন্দ্রগুলোতে এ কর্মসূচি চলবে।
সিভিল সার্জন আরো জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। প্রার্দুভাব বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও লোকবল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, সবচেয়ে বেশি প্রার্দুভাব হওয়া ৩০টি উপজলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জেই রয়েছে তিনটি উপজেলা রয়েছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার হাম প্রতিরোধে বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা আশা করছি, আর সংক্রমণ বাড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আগে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৮ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি রয়েছে ৬০ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নার থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৩ শিশু। আর এখন পর্যন্ত ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৯ জন শিশুর শরীরে হাম ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় গত ৩ মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬৪ জন রোগী এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ জানান, বিশেষ টিকা কর্মসূচি শুরু হওয়ায় আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভালো হবে।
