ঢাকা
logo
প্রকাশিত : March 31, 2026

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা

অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের মৃত কাশেম বিশ্বাস ও লাইলী বেগমের মেয়ে স্বপ্না বেগম অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী এক নারী। দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেয়া ২ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে স্বপ্না বড়। অভাব অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা স্বপ্নার প্রাথমিকের গন্ডি পেরোতেই বিয়ে হয় ভূমিহীন যুবক নূর আলমের সঙ্গে। স্বামী অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে কোনমতে সংসার চালায়। এভাবে কয়েক বছর পার হয়ে যায়। এরই মধ্যে ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জন্ম হয়। সংসারে অভাবের তাড়নায় স্বচ্ছলতা আনতে বড় স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেয় স্বপ্না। বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর দূর্ঘটনায় স্বামীর হাত ও বড় ছেলের পা ভেঙ্গে যায়। তাদের চিকিৎসা বাবদ অর্জিত সব টাকা খরচ হয়ে যায়। স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় স্বপ্নার। খালি হাত দেশে ফিরে আসে। অসহায় স্বামী কাজ করতে পারে না। হাল ধরতে একটি এনজিও থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নেয় স্বপ্না। অন্যের বাড়িতে দিন মুজুরের কাজ করে কিছু টাকা সঞ্চয় করে। সাথে কিছু টাকা ধার করে চানাচুর, নিমকি, গজা বানিয়ে বিক্রি করা শুরু করে। অল্পদিনেই খাবারের চাহিদা বাড়তে থাকে। পরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিধি বড় করে। তার স্বামী তৈরিকৃত খাবার বাজারে বিক্রয় শুরু করে। পাইকারিতে খাবার বিক্রি শুরু হয়। দুইজন মহিলাকে নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা বড় করা হয়। মাসিক আয় দাঁড়ায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিছুদিনের মধ্যে জমি কিনে ধান চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি গরু ও ছাগলের খামার দেয়ার পরিরকল্পনা করছেন। বর্তমানে ২ মেয়ে ২ ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী

আলেয়া বেগম শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ৪০ নং সুতালড়ী কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বাবা মৃত আবুল হোসেন খান ক্ষুদ্র ঘড়ির ব্যবসায়ী ছিলেন আর মা হাছিনা খাতুন গৃহিনী। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর এসএসসিতে প্রথম বিভাগ ও এইচএসসিতে মানিকগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর বিবাহ হলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর পর পড়াশোনা শুরু করার জন্য প্রাইভেটে ভর্তি হন। শ্বশুর বাড়িতে তিনি সহ আরও চারজন পড়াশোনা করেন। হারিকেন কিংবা কুপি বাতি জ্বালিয়ে পড়তে হতো। অনেক কষ্ট কওে বিএ পাশ করেন। এরপর আবার সংসার জীবন শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে আবেদন করে চাকুরি পান। ২০১০ সালে মাস্টার্সে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগে মাস্টার্স উত্তীর্ণ হন। এরই মধ্যে বড় ছেলে মানিকগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। ছোট ছেলে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে ইলেকট্রিনিক্স বিভাগের এর ছাত্র। ২০০৮ সালে সরাসরি নিয়োগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করে সম্মানের সাথে জীবন যাপন করছেন।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী

স্বপ্না রাজবংশী, ডিগ্রীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় নারায়ন মন্ডলের সাথে। বিয়ের এক বছর পর স্বামীর সরকারি চাকুরি হয়। এরপর থেকে শশুরবাড়িতে নির্যাতন শুরু হয়। পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয়। বাবার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল, মোটা অংকের টাকা পয়সা আনার জন্য চাপ দেয়া হয়। বাবার সামর্থ না থাকায় চাহিদা পূরণ করতে পারে নাই। স্বামী অত্যাচার শুরু করে। এভাবে বেশ কিছু দিন পর বাবার বাড়ি ফেলে চলে যায়। স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজন আর কোন যোগাযোগ রাখে নাই। স্বামীর বাড়িতে গেলে তাড়িয়ে দেয়। অনেক কষ্টে বাবার বাড়িতে আবার পড়াশুনা শুরু করে ডিগ্রী পাস করে মাস্টাস ভর্তি হন। বর্তমানে বেসরকারি একটি ফার্মে চাকুরি করছেন।

সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছে যে নারী

সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা শিরিন সুলতানার জন্ম দরিদ্র কৃষক পরিবারে। ৯ ভাই-বোনের সংসারে ঠিকমত তিন বেলা খাবারও জুটত না। অভাবের কারণে ভাই-বোনরা পড়াশোনা করতে পারে নাই। শিরিন সুলতানা নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া অবস্থায় বিয়ে দেয়া হয়। অনেক স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যায়। কিন্তু সেখানেও অভার পিছু ছাড়ে না। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলেও শশুর বাড়ির লোকজন রাজি হয়নি। সকলের অমতেই এস.এস.সি পাস করেন। তখন থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন সন্তানদের বাল্য দিবেনা ও বাল্য বিবাহ হতে দেখলে প্রতিহত করবে। পরিবারের সাথে সামাজের অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে সহযোগীতা করতে থাকেন। বিভিন্ন সামাজিক সেবা মূলক কাজ দেখে এলাকার লোকজন ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করলে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। নতুন রাস্তা নির্মান, পুরতন রাস্তা সংস্কার সহ এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। এছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধ, গরীব অসহায় ছেলে-মেয়েদের বিনা বেতনে পড়াশোনায় সহযোগীতা প্রদান করেন। সমাজে মাদকের প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ মিমাংসা, অস্বচ্ছল মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত আছেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram