

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বিশ্বমঞ্চে ছবির প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়ে লন্ডনের সম্মাননা পেলেন চিলমারীর কাবিউর রহমান রিয়াদ। চিলমারীর ঐতিহ্য-ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সারি সারি নৌকা আর ধূলিময় চরে শিশুদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস-এরকম একটি চিরচেনা দৃশ্য কাবিউর রহমান রিয়াদের ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়েছিল। আর সেই চিরচেনা বাংলার রূপটিই এবার জয় করে নিয়েছে বিশ্বমঞ্চ। লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ ‘ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় ১৫-১৮ বছর বয়স বিভাগে রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন কুড়িগ্রামের এই তরুণ।
১৬০টি দেশের আলোকচিত্রীদের পাঠানো ২০হাজারেরও বেশি ছবির মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছে কাবিউরের তোলা চরাঞ্চলের জীবনধর্মী এই ছবিটি। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিযোগিতার ২৩তম আসরের ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন কাবিউর।
কাবিউর রহমান রিয়াদ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সবুজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবা জিয়াউর রহমান থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এবং মা কুসুম আক্তার রুনা স্থানীয় এনজিও ‘মহিদেব’-এর অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী।
কাবিউরের এই যাত্রার শুরুটা ছিল মার হাত ধরে। মা কুসুম আক্তার রুনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, অফিসের কাজে আমি যখন ক্যামেরা আনতাম, রিয়াদ সেটি হাতে নিয়ে নদী আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। চোখে যা পড়ত, সেটাই সে ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা করত। ওর একাগ্রতা দেখে আমি ওকে একটি ক্যামেরা কিনে দিই।
কাবিউরের ছবিতে বারবার ফিরে আসে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের নীরব সকাল, শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং চরের শিশুদের প্রাণবন্ত শৈশব। গত বছরের মার্চে ইনস্টাগ্রামে এই প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখে অংশ নেওয়ার সাহস করেন তিনি। কয়েক ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নভেম্বরে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নেয় তার ছবি এবং সবশেষে আসে এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাবিউর বলেন, আমি একজন ভালো আলোকচিত্রী হতে চাই। আমাদের এলাকার জীবন ও প্রকৃতিকে মানুষ যেভাবে সচরাচর দেখে না, আমি আমার লেন্সের মাধ্যমে সেই ভিন্ন রূপটিই তুলে ধরতে চাই। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও অনেক দূর যাওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

