

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জায়গা জমির বিরোধের জেরে ৩ বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম আব্দুল্লাহ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১১ টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের মোস্তফা ভূঁইয়া বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই বাড়ির নুরুল আলম রাসেলের একমাত্র পুত্র।
নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় দ্বীন ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিহত শিশু আব্দুল্লাহ’র পরিবারের জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ দ্বীন ইসলাম শিশু আব্দুল্লাহকে আছাড় মেরে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান দ্বীন ইসলাম। তবে প্রতিপক্ষের দাবী শিশু আব্দুল্লাহ’র দাদা ঝগড়ার সময় নিজ নাতীকে না চিনে আছাড় দিলে শিশুটি মারা যান।
নিহত শিশুর দাদা মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি কেন আমার নাতীকে মারবো, আব্দুল্লাহ আমার একমাত্র নাতী। দ্বীন ইসলামরা প্রথমে আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে এরপর সে যখন ছুটে চলে যায়, তখন আমার নাতী দাদীর কাছে আসতেছিল। তারপর দ্বীন ইসলাম আছাড় দিয়ে তাকে মেরে ফেলছে।’
নিহত শিশুর দাদী জোৎস্না আরা বেগম বলেন, ‘দ্বীন ইসলামের সাথে আমাদের প্রায় ১৫ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার জায়গা নিয়ে ঝগড়ার সময় দ্বীন ইসলাম আব্দুল্লাহ’র মা রুপা আক্তারকে মারধর করে। আব্দুল্লাহ’র মা প্রাণ বাঁচাতে ঘরে ঢুকে পড়েন। এসময় দ্বীন ইসলাম আব্দুল্লাহকে সামনে পেয়ে আছাড় দেয়। আছাড় দেওয়ার পর আব্দুল্লাহকে দ্রুত মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়া প্রতিপক্ষ মাহফুজের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, ‘দুই পরিবার ঝগড়া লাগছে, এরপর শিশু আব্দুল্লাহ’র দাদী চিৎকার করে বলতেছে নাতীকে মেরে ফেলছে। পরে পুলিশ এসে আমার স্বামী মাহফুজ, শাশুড়ী রহিমা বেগম ও প্রতিবেশী বাদশাকে নিয়ে গেছেন। আমরা কেউ ঘটনার সময় ছিলামও না।’
নিহত শিশুর চাচা নুর সাফা বলেন, ‘আমাদের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে বিগত প্রায় ১৫ বছর। এ বিষয়ে কিছুদিন পরপর উস্কানিমূলক কথা বললে ঝগড়াঝাটি হয়, ঠিক আজ সকালেও তেমনটা হয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে মুরুব্বিদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর আমার আম্মু চলে যায়, আমার বাবা অসুস্থ্য মানুষ তিনিও সেখান থেকে চলে যান। আমার ভাতিজা আব্দুল্লাহ আমার আম্মুর কাছে আসতেছিল, আম্মু চলে যাওয়াতে দ্বীন ইসলাম আমার ভাতিজাকে সামনে পেয়ে তাকে আছাড় দেয়, লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এরপর গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।’
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘পারিবারিক কলহে শিশু আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

