

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দোহালিয়া ইউনিয়নের দোহালিয়া বাজার, ছাতক–সুনামগঞ্জ সড়ক এবং অন্তত ১৭টি গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। অথচ বারবার নদী ভাঙনের কবলে পড়লেও এলাকাটি এখনো সরকারি নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের তালিকার বাইরে—যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর স্রোত গত কয়েক সপ্তাহে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। দোহালিয়া বাজার সংলগ্ন নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে দোকানপাট, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতক–সুনামগঞ্জ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দোয়ারাবাজারের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোহালিয়া এলাকায় নদীভাঙন নতুন নয়। প্রায় প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করেনি। অথচ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে—দোহালিয়া কেন বারবার উপেক্ষিত, সে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
দোহালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, 'প্রতিবার ভাঙনের সময় আমরা শুধু আশ্বাস পাই। কাগজে নাকি রিপোর্ট যায়, প্রস্তাব যায়—কিন্তু বাস্তবে কিছুই আসে না। এভাবে আর কতদিন চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখব?'
ভাঙনের মুখে থাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ আগাম গাছ কেটে ফেলছেন, কেউ দোকান ভেঙে মালামাল সরাচ্ছেন।
স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার জিয়াউর রহমান বলেন, 'এটি শুধু নদী ভাঙন নয়, এটি পরিকল্পিত অবহেলার ফল। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দোহালিয়া বাজারসহ পুরো এলাকা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।'
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়নি—তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, সুরমা নদীর এই অংশে সঠিক নদীশাসন না থাকায় স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়েছে, যা ভাঙনকে আরও তীব্র করছে। দ্রুত জিওব্যাগ, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
একটি বাজার, একটি প্রধান সড়ক ও কয়েকশ মানুষের বসতভিটা যখন বিলীন হওয়ার পথে—তখন দোহালিয়া কেন এখনো প্রকল্পের বাইরে? ভাঙন থামাতে আর কত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে গেলে নড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
জানতে চাইলে পাউবো'র দোয়ারাবাজার উপজেলা এসও সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, দোহালিয়া বাজার সংলগ্ন নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রকল্প করে ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

