

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আহত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে সরকারি এই হাসপাতালে বিনামূল্যে এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে সদর হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ রোগীকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনে এনে হাসপাতালে পুশ করাচ্ছেন। এ সুযোগে কিছু অসাধু ফার্মেসি মালিক অবৈধভাবে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে ৪৫০ টাকার ভ্যাকসিন এখন ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা মারাত্মক বিপাকে পড়ছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালের জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা ভ্যাকসিন না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ একাধিক দিন এসেও ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
কলারোয়ার পাঁচনল গ্রামের কুকুরের কামড়ে আহত সাকিবুল হাসান (১৭) ও জয়নগরের আজিজুল গাজী (৪৫) জানান, বাইরে ভ্যাকসিনের অতিরিক্ত দাম তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। একই অভিযোগ করেন বিড়ালের আঁচড়ে আহত শিশু প্রিয়াঙ্কা (৮) ও শরিফা খাতুন (২৫)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভ্যাকসিন সেন্টারে দায়িত্বরত সেবিকারা জানান, ভ্যাকসিনের অভাবে প্রতিদিন শত শত রোগী ফিরে যাচ্ছেন। অনেক সময় রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানস কুমার বলেন, জলাতঙ্ক একটি নিশ্চিত প্রাণঘাতী রোগ। কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনিবার্য। তাই ভ্যাকসিন সংকট থাকলেও রোগীকে চার থেকে পাঁচ ডোজ সম্পূর্ণ করতেই হবে
।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

