

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় রাজবাড়ীর সন্তান সৈনিক শামীম রেজা, বীর–সহ ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন শান্তিরক্ষী।
গর্বিত সৈনিক শামীম রেজা (৩০) রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামের আলমগীর ফকিরের ছেলে। শামীম তিনভাই ও এক বোনের মধ্যে ২য় সন্তান। শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যর সংবাদ শোনার পর থেকেই তার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। শামীম ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সুদানের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে এই ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে শহীদ ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
হামলায় শহীদদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী জেলার কৃতী সন্তান সৈনিক শামীম রেজা, বীর। তার এই আত্মত্যাগ রাজবাড়ীবাসীর জন্য গভীর শোকের পাশাপাশি গর্বের কারণ হয়ে থাকবে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান আরও একবার উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরলেন তিনি।
হামলায় শহীদ বাংলাদেশি অপর শান্তিরক্ষীরা হলো- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, বীর (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শান্ত মন্ডল, বীর (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ), লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
আহত শান্তিরক্ষীদের অবস্থা হামলায় আহত আটজন শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হলেও সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বাকি সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক গৌরবময় নিদর্শন হয়ে থাকবে।”
একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
