ঢাকা
২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৫৯
logo
প্রকাশিত : নভেম্বর ২৮, ২০২৫

নিঝুম দ্বীপের সড়ক-ব্রিজ সাত বছর ধরে অচল, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বিস্ময়ভূমি নামে পরিচিত হাতিয়ার ১১নং ইউনিয়ন নিঝুম দ্বীপ—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হরিণের রাজ্য আর পর্যটনে সম্ভাবনাময় হলেও এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা সড়ক ও অকার্যকর ব্রিজ–কালভার্টের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দ্বীপের প্রায় ৩৭ হাজার বাসিন্দা এবং প্রতিদিন আগত শত শত পর্যটক।

প্রায় ৯৫ বর্গকিলোমিটারের এ দ্বীপ চারদিকে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদী বেষ্টিত। ২০০১ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও মানুষের বসবাসের ৬৫ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। দ্বীপের মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রধান সড়কটি পাকা করা হয় ১১ বছর আগে, কিন্তু জোয়ার–বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে দ্রুতই নাজুক হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়—নিঝুম দ্বীপ ঘাট থেকে বন্দরটিলা বাজার হয়ে নামারবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কের দু’টি ব্রিজ ও কয়েকটি কালভার্ট এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। লাইটহাউস সংলগ্ন ছোয়াখালি ব্রিজ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে ধসে আছে। বিকল্প পথ দিয়ে কোনো মতে পারাপার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন।
স্থানীয় হোন্ডা, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের চাঁদায় তৈরি অস্থায়ী কাঠ ও মাটির সাঁকোই এখন তাঁদের ভরসা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়—২০১৩-১৪ অর্থবছরে আইলা প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়ন করা হলেও মাত্র চার বছরের মধ্যেই তাতে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। এরপর টানা সাত বছরেও কোনো সংস্কার হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, পর্যটক, শ্রমজীবী, কৃষকসহ সকল শ্রেণি–পেশার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

এছাড়া, মেইন রোডের লিঙক রাস্তাগুলোর একটিতেও পড়েনি ইটের সলিং।

পর্যটক রুপণ-রুহি জানান, নিঝুম দ্বীপের প্রকৃতি মন ভরিয়ে দেয়, কিন্তু রাস্তার দুরবস্থা দেখে কষ্ট লাগে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান বলে—শুকনো মৌসুমে ধুলা–বালিতে শ্বাসকষ্ট হয়, আর বর্ষায় রাস্তা অচল হয়ে পড়ায় স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অটোরিকশা ও হোন্ডা চালকেরা জানান—রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত সড়ক ও ব্রিজ–কালভার্ট সংস্কার করে দ্বীপে পর্যটনকে আবারও সচল করা হোক।

সড়ক ও ব্রিজের অবস্থা স্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান—রাস্তা ও ব্রিজের ডিজাইন এবং এস্টিমেট সম্পন্ন হয়েছে, এখন পরীক্ষাধীন রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram