

মোঃ মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে সরকারি হাটের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের পর সেই ঘর সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে। সরকারি জায়গার অবৈধ দখল ছাড়তে সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও ছাড়া হয়নি দখল। বরং জায়গা দখলের প্রায় আড়াই বছর পর নির্মিত ওই ঘর সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
জয়পুরহাটের কালাইয়ে সরকারি হাটের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের পর সেই ঘর সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে। সরকারি জায়গার অবৈধ দখল ছাড়তে সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও ছাড়া হয়নি দখল। বরং জায়গা দখলের প্রায় আড়াই বছর পর নির্মিত ওই ঘর সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এমন ঘটনা কালাই উপজেলার বৃহত পুনট হাটে ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ দখল করে পজিশন বিক্রি করেছেন বিদ্যুৎ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার পুনট ইউনিয়নের ভূগোইল গ্রামের বাসিন্দা। বিদ্যুৎ তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ওই পজিশন ক্রয় করেছেন রুবেল হোসেন। তিনিও পুনট হাটের সরকারি জায়গা দখল করে বর্তমানে ভূষি মালের ব্যবসা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ হোসেন গত আড়াই বছর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুনট হাটের সরকারি জায়গা দখল করেন। এরপর সেখানে সিমেন্টের খুঁটি, কাঠ-বাঁশ ও উপরে টিনের ছাউনি দিয়ে বড় আকারে একটি ঘর নির্মাণ করেন। প্রথম থেকে তিনি ওই ঘরটি ভাড়ায় পরিচালনা করলেও সম্প্রতি হাটের আরেক ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনের নিকট পজিশনসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সরকারি জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ঘর নির্মাণের সময় বাধা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও তার ভাই, ভাতিজা কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়েছে অনেকেই। এরপর স্থানীয়রা বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও করেছিলেন। তখন সরকারি জায়গার অবৈধ দখল ছাড়তে উপজেলা সহকারি ভূমি কার্যালয় থেকে সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও ছাড়া হয়নি দখল। বরং জায়গা দখলের প্রায় আড়াই বছর পর নির্মিত ওই ঘর সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন অবৈধ দখলদার বিদ্যুৎ হোসেন।
কালাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা যায়, পুনট হাটে সরকারি জায়গায় অবৈধ দখলদার বিদ্যুৎ হোসেনসহ অনেকেই উচ্ছেদ করতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। সরেজমিন তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
শাহীনুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ ওই ঘরটি সাড়ে ৪ লাখ টাকায় রুবেলের নিকট বিক্রি করেছে, তা হাটের সবাই জানে। লুকানোর বা গোপন করার কিছু নেই। শুধু যে বিদ্যুৎ এমন কাজ করেছে তা নয়, আরও অনেকেই হাটের জায়গা দখল করে ইট দিয়ে ঘর নির্মাণ করছেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেছে। কই কাজতো বন্ধ হয়নি। বরং তার দেখাদেখি আরও অনেকেই হাটের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
অভিযুক্ত বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ওই ঘর নির্মাণ করতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি পজিশনসহ ঘরটির অবকাঠামো সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি এটা সত্য। তবে জায়গা বিক্রির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। আমি সরকারি জায়গা বিক্রি করতে পারিনা।
ঘর ক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করে রুবেল হোসেন বলেন, যা শুনেছেন তা সঠিক। আমি ব্যবসা করার জন্য এই ঘরটি বিদ্যুতের নিকট থেকে ক্রয় করেছি।
হাট ইজারা কমিটির সভাপতি ও কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

