

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: কাশিয়ানী উপজেলার নদীবন্দর হিসেবে খ্যাত ভাটিয়াপাড়ায় মধুমতি নদীর বাঁধে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে সেখানকার মধুমতির তীরের প্রায় ১শ’ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আতঙ্কে দোকান-পাট ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। শুধু ভাটিয়াপাড়া বাজারই নয়, তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মধুমতি নদীর ফুকরা চরমাঠলা, মানিকহার, মানিকদাহ, ডুবশী, এমবিআর চ্যানেলের পূর্ব নিজড়া, শৈলদাহ নদীর লেবুতলা এলাকা। ভাঙ্গনকবলিত এসব এলাকায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবী স্থানীয়দের।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার অন্যতম বাজার ভাটিয়াপাড়া বাজার। এ বাজারটি গড়ে উঠেছে মধুমতি নদীর কোল ঘেষে ব্রিটিশ শাসনামলে। এ বাজারটি নদী বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হবার পাশাপশি রয়েছে রেল স্টেশন। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্প্রতি মধুমতি নদীর বাঁধে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বাঁধের প্রায় ১শ’ মিটার এলাকা। ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরিয়ে নিচ্ছে তাদের দোকানপাট ও মালামাল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা ও সালাউদ্দিন মোল্ল জানান, ভাঙ্গনকবলিত এ বাজারে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করায় প্রতিবছর ভাঙ্গনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর আগেও কয়েকবার ভাঙ্গনের শিকার হতে হয়েছে এখানকার ব্যবসায়ীদের। ফলে জীবিকার একমাত্র উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হরিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীকে। ভাটিয়াপাড়া বাজারের মধুমতি নদী ভাঙ্গন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে প্রাথমিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় তাদের। দ্রুত ভাঙ্গকবলিত এলাকায় স্থায়ী সমাধানের দাবী ভুক্তভোগীদের।
এছাড়াও তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মধুমতি নদীর ফুকরা চরমাঠলা, মানিকহার, মানিকদাহ, ডুবশী, এমবিআর চ্যানেলের পূর্ব নিজড়া, শৈলদাহ নদীর লেবুতলা এলাকায় নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নদীগর্ভে যাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলী জমি রাস্তাঘাট। স্থানীয়দের দাবী দ্রুত স্থায়ী কাজ করে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেছেন, চলতি বর্ষা-মৌসুমে তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মধুমতি নদীর ভাটিয়াপাড়া বাজার, ফুকরা চরমাঠলা, মানিকহার, মানিকদাহ, ডুবশী, এমবিআর চ্যানেলের পূর্ব নিজড়া, শৈলদাহ নদীর লেবুতলা এলাকা। আমরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবষায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি। স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
শুধু আশ্বাস নয়, পরিদর্শন নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ এমনটিই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।
