

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের জের ধরে ব্যাপক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকা ও তার আশপাশে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়া একে অপরকে আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে বলয় ভারী করার অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলার সিনিয়র নেতাদের সামনে বাকবিতন্ডা শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় বেলায়েতের অনুসারী ইদ্রিস আলীর লোকজন জাকারিয়ার লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে খাগকান্দা এলাকায় কাকাইলমোড়া, নয়নাবাদ ও চম্পকনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেনের অনুসারী কাকাইল মোড়ার ইদ্রিস আলীর বাড়িতে জাকারিয়ার সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে। পাল্টা হামলা করলে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, মনজুর হোসেন (৪০), মনির হোসেন (৩৫), মীম (১৬), মকবুল (৫৫), ফতি (৪০), রনি (১৬), জসিম (৫৫), ফাহাদ (১৬) ও সাইমন (৩৫)। এদের মধ্যে টেটাবিদ্ধ মঞ্জুর হোসেন, শাহালমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হামলার সময় কাকাইলমুড়ার ইদ্রিস আলী, মঞ্জুর হোসেন, মনির হোসেন ও আবেদ আলীসহ দশজনের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
আহত মনির হোসেন জানান, তিনি সকালে মুরগির ফার্মে কাজ করার সময় কোন কিছু বুঝার আগেই ২০-২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ফার্মে থাকা ১১০০ মুরগী লুটপাট করে নিয়ে যায়।
ইদ্রিস আলী জানান, জাকারিয়া খাগকান্দা ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনের সহায়তায় তাদের দশটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মনজুর হোসেন ও তার ভাই শাহআলমের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনা শোনার পর যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় পরিদর্শনে গেলে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। যৌথ বাহিনী চলে আসার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, এলাকার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
