ঢাকা
২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:০২
logo
প্রকাশিত : আগস্ট ১৫, ২০২৫

কাঠালিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

মাছুম বিল্লাহ জুয়েল, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। প্রতিদিন ৩৫০ শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক জরাজীর্ণ এ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছেন, ফলে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে সাড়ে তিনশত শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক রয়েছে। হাডুডু ও কাবাডি খেলায় বিদ্যালয়টি জাতীয় পর্যায়ে পুরুস্কার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। বিদয়ালয়টিতে এসএসসি সাধারণ ও এসএসসি ভোকেশনাল দুটি শাখা রয়েছে। সাধারণে মানবিক ও বিজ্ঞান শাখায় প্রতি বছর ভালো ফলাফল করে আসছে। এ বছরও বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। স্কুলটিতে বর্তমানে তিনটি ভবন রয়েছে।এর মধ্যে একতলা একটি পাকা ভবন, বাকি দু’টি ভাংঙ্গা চুড়া কাঠের ঘর।

এ ভবন গুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা এবং মরিচাধরা টিনের ছাউনি দিয়ে অঝোরে পড়ছে পানি। বৃষ্টি হলে ক্লাসে বসার সুযোগ থাকেনা। সব মিলিয়ে পাঠদানের পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঝুকিপূর্ণ।

ইতোমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছে। কিন্তু ক্লাস নেয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরাতন ভবনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকি। কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপা আক্তার বলেন, “ক্লাস চলার সময় প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”

অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, “সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকি। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছগির হোসেন জানান, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান চালাচ্ছি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার আজিম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।”

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে নতুন ভবনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হবে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram