

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: একদিনের বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে গেছে জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার মাঠে প্রায় ৫’শ একরেরও বেশি আমন ধান ক্ষেত। রোপনের মাত্র কয়েকদিন পর এসব ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি পারাপারের পথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় উপর থেকে পানি নিচে এসে ধান ক্ষেত তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ চাষীদের। কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, দ্রুত পানি নেমে গেলেই ফসল রক্ষা হবে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জেলার কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পানির নিচে ফসলের ক্ষেত। উপর থেকে পানি নিচে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে যেদিক হয়ে পানি পারাপার হতো, সেই পথ বন্ধ থাকায় গড়ে আসা পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বুধবার যেসব ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আজ বৃহস্পতিবার তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, রোপণের শুরুতেই যে অবস্থা, তাতে তাদেরকে এবারে লোকসান গুনতে হবে পুরোদমে।
আঁওড়া মহল্লার মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই মাঠে দুই বিঘা ধান লাগিয়েছি। সার ও ঔষধও দিয়েছি। গাছগুলো সবুজ হয়ে ওঠেছে। বুধবার রাতের বৃষ্টিতে সব ধান গাছ ডুবে গেছে। পঁচনও ধরেছে। পানি পারাপারের পথ যদি ভরাট না করতো, তাহলে সাথে সাথেই পানি নেমে যেত। দুই/একদিনের মধ্যে পানি নামার ব্যবস্থা না করলে সব ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। আবার নতুন করে রোপণ করতে হবে। চারা পাবো কোথায়? আমরা এখন কি করবো।’
একই মহল্লার বাসিন্দা ডবলু মিয়া বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। কিস্তি তুলে পুকুরে মাছ ছেড়েছি, সব মাছ চলে গেছে। ফসলও ডুবে গেছে পানিতে। এখন কিস্তি দিব কিভাবে? পানি পার হচ্ছে না, তাই পানি আরও বাড়তেছে।’
কালিমহর মহল্লার বাসিন্দা তানজিরুল ইসলাম রানা বলেন, ‘গত আলুর আবাদ করে দাম পাইনি। এবারও আগাম জাতের ধান আবাদ করেছি, রোপণের এক মাস যেতে না যেতেই পানিতে তলে গেছে। আবার চারা পাবো কোথায়।’
উত্তরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘জন্মের পর কোনোদিন এই মাঠের ফসল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেতে দেখিনি। রাস্তার পাশে পানি পারাপারের সব পথ ভরাট দেওয়ার কারনে আজ মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুইদিন ধরে আমন ধানের গাছ পানির নিচে তলিয়ে আছে, পানি কিভাবে পার হবে, এ নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই।’
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শুধু আঁওড়াতেই নয়, পুরো উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলে গেছে। এ বিষয়ে অদ্যই উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তদন্তপূর্বক দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার। সে মোতাবেক কাজও চলছে। পানি নেমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।’

