

মো. নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভুয়া SRB সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। অপহরণের চার দিন পর ২১ অক্টোবর ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে নিজের হার্ডওয়্যারের দোকান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযুক্তরা কালো পোশাকের ওপর SRB লেখা কটি পরা, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরিহিত ছিল। নিজেদের SRB সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে ভিওআইপি নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর এলাকার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ভোরে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, মিজানুর রহমান, জয়নাল উদ্দিন, মো. আব্বাস উদ্দিন, মো. ছলিম ওরফে সেলিম এবং দেলোয়ার হোসেন। তাঁদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো SRB লেখা কটি, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, সুমন মুন্সি অতীতে SRB-তে কর্মরত ছিলেন। পরে ভুয়া পরিচয়ে একটি দল গড়ে তুলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। জয়নাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের তিনটি এবং ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে। আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
