

উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: সামান্য বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় খেলার মাঠ। মহাসড়ক থেকে কলেজে যাওয়ার রাস্তাটিও ডুবে যায় পানিতে। ফলে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কলেজের শিক্ষক, ছাত্রসহ চলতি এইচএসসি পরিক্ষার্থীরাও এখন পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের চারপাশের চেয়ে মাঠ নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় মাঠটি জলমগ্ন হয়ে আছে। শিক্ষকরা মটরসাইকেলে চলাচল করছে, যাতে পানিতে ভিজে না যায়। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের কলেজে আসা-যাওয়া করতে নোংরা বা জমে থাকা পচা পানি পার হতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট আকারের দুইটি পাইপ বসানো হয়েছে। যা বালি মাটি পরে ভরাট হয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাঠে পানি জমে থাকে। কলেজ খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে জলাবদ্ধতার কারণে মাঠে নামতে পারছে না। এতে নোংরা হয়ে তাদের জামা-কাপড় ভিজে যায়। এতে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে কলেজ মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, সুবিদখালী সরকারি কলেজটি মহাসড়কের পাশে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজটি একটি সরকারি কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ও অনার্স কোর্স পরিচালনা করে। কলেজটি বহু বছর ধরে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কলেজের শিক্ষার্থী অর্জুন, রাব্বি, মাহমুদুল হাসান জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কলেজ মাঠে পানি জমে থাকে। কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচল করাও যায় না। ছোট একটি পাইপ দিয়ে মাঠের পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব নয় এবং পাইপটি বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য জলাবদ্ধতা নিরাশনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় ফুটবল প্রশিক্ষক প্রভাষক মোঃ জসিম উদ্দিন সজিব জানান, সুবিদখালী সরকারি কলেজে একাধিকবার বালু ভরাট করে উচু করা হয়েছে। তারপরও মাঠের চারপাশ অনেক উচু। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে থাকে। যদি মাঠ ভরাট করা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পানির পাইপ সংস্কার করলে মাঠের পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং খেলোয়াররা তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পারবে।
সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ প্রফেসর আকতার উদ্দিন জানান, এখন বর্ষাকাল, বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানো হয়েছিলো, তা হয় তো বন্ধ হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ভোগান্তি নিরসনে জন্য অতি দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
