

মো. এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: লাখো ভক্তের আল্লাহ আল্লাহ জিকিরের ধ্বনি ও আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউছুল আজম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী প্রকাশ বাবা ভান্ডারীর (ক.) পুত্র মাইজভান্ডারী ত্বরিকার সাধক শাহসূফি সৈয়দ শফিউল বশর (ক.) মাইজভান্ডারীর ১০৭তম খোশরোজ শরীফ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাইজভান্ডার দরবার শাহী ময়দানে কোরআন সুন্নাহর মাহফিল, মিলাত ও জিকির শেষে বিশ্বের সকল উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ মুজিবুল বশর আল-হাছানী আল-মাইজভান্ডারী (ম.)।
এ সময় তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা সত্যবাদী তথা আল্লাহওয়ালাদের সঙ্গে থাকার আদেশ করেছেন। আর এটি খোদাভীরুতা অর্জন করার সহজতম উপায়। তাছাড়া যেকোনো বিষয়ে কারো কাছ থেকে কোনো কিছু শেখার এবং গ্রহণ করার এটি একরকম স্বীকৃত এবং পরীক্ষিত পদ্ধতি।
তিনি আরো বলেন, কারো কাছ থেকে কিছু হাসিল করতে হলে তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে থাকা, তাঁর খেদমতে সংযোগ বৃদ্ধি করা আবশ্যক। তবেই তার কাছ থেকে কিছু নিতে পারবে। তাসাউফে ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের সোহবতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দাদের সোহবত থেকে দূরে থাকলে সত্যিকার অর্থে তাক্বওয়া বা খোদাভীরতা অর্জন অনেকাংশে অসম্ভব বলা যায়।
সৈয়দ মুজিবুল বশর আল- হাছানী আল মাইজভান্ডারী আরো বলেন, কোরআন সুন্নাহ বর্হিভূত কোন কাজ মাইজভান্ডারে হয় না। যত প্রকার মন্দ কাজ আছে; সব গুলো শয়তানে করে। দুনিয়াতে আমরা এমন ভাল কাজ করব যা করলে আল্লাহ-রাসুল খুশি হবে, সে কাজ করব। এতে আমাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ হবে। আমরা হারামকে ত্যাগ করে হালালের পথে থাকব।
মোনাজাতের সময় সৈয়দ নূরুল বশর মাইজভান্ডারী, অধ্যক্ষ মাওলানা হাসনাত উল্লাহ ফারুকী, মাওলানা গোলাম মোস্তফা শায়েস্তা খান আল আযহারী, মাওলানা দিদারুল আলম ও মাওলানা জাকির হোসেনসহ লাখো ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খোজরোজ শরীফে আগত ভক্তরা গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলে সাজ্জাদনশীন শাহ্সুফি মাওলানা সৈয়দ মজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ অন্যান্য সকল সাজ্জাদানশীনদের সাথে দীর্ঘ লাইন ধরে সাক্ষাৎ করে দোয়া কামনা করতে দেখা গেছে। খোজরোজ শরীফে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা প্রশাসন, থানা ও নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের কয়েক শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল।
