

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ’ বেরিয়ে আসছে। ৪০ কোটি টাকা মূল্যের এই স্বর্ণ চালানটির খালাসের দায়িত্বে ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের চার কর্মী। তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তাসহ আরও বেশ কয়েকজন এই স্বর্ণ পাচারের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যকর এই স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লাইটটি হ্যাঙ্গারে নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে স্বর্ণের চালানটি তাদের খালাস করার কথা ছিল। তার আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণ জব্দ করা হয়। বিমানের একজন কর্মকর্তা পুরো পাচারের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ২ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিমানটির কার্গো হোল থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের একটি গোয়েন্দা সংস্থা, অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
এদিকে, একই কায়দায় গত মার্চে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরপর দুটি ঘটনার সাদৃশ্য থেকে বোঝা যায় একই চক্র একই ফ্লাইট ব্যবহার করে বড় ধরনের স্বর্ণের চালান পাচারের চেষ্টা করেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট জানায়, পরপর দুটি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে এই চক্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিয়োজিত বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কর্মীদের মধ্যে যারা এই চালান খালাসের দায়িত্বে ছিলেন তদন্তকারীরা তাদের নাম পরিচয় জানতে পেরেছে। তারা যাতে পালাতে না পারেন, এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তদন্তকারীরা।
এর আগে গত সোমবার বিমানের যে ফ্লাইট থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হয় সেই ফ্লাইটটির পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিল তার তালিকা চেয়েছেন বিমানবন্দর থানার তদন্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে ফ্লাইটও সরজমিনে পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) শরিফ হোসেন বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। সামনে আমরা এই মামলার বড় ধরনের অগ্রগতি দেখাতে পারব বলে আশা করছি। ফ্লাইটটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তালিকা পাওয়া মাত্রই জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম শুরু করব।
