ঢাকা
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:২৪
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৫, ২০২৬

ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে পড়বে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে একথা বলেছে আইএমএফ।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম চড়া থাকবে, এমনকি আগামী বছরও একই অবস্থা থাকতে পারে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আইএমএফের রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বৈশ্বিক মন্দার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএমএফ, যার সর্বশেষ একটি রূপ দেখা যায় করোনা মহামারির সময়।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে।

আইএমএফ বলছে, তেলের দাম যদি এ বছর গড়ে ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা চরম রূপ নেবে।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে। আর যুদ্ধ যদি দুই বছর ছাড়িয়ে যায় তবে মন্দার ঝুঁকি বাড়বে কয়েকগুণ।
আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সংকটের সমাধান হয় এবং বছরের মাঝামাঝি নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধস বা সংকোচনের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর ইরানের অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হবে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ফিরে পেতে পারে।

অন্যদিকে, কাতারের মতো দেশ, যারা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় সরবরাহকারী, তারাও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি শোধনাগার রাস লাফান আক্রান্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

আইএমএফ উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশের অর্থনীতি টিকে থাকা নির্ভর করে তার জ্বালানি অবকাঠামো ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতার ওপর। যেমন, সৌদি আরবের নিজস্ব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন থাকায় তারা বিকল্প পথে তেল পাঠাতে পারে। ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ৩ দশমিক ১ শতাংশ টিকে থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে এর বাইরে অধিকাংশ তেল রপ্তানিকারক দেশের ভাগ্য নির্ভর করছে আগামী কয়েকমাসে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

সূত্র : বিবিসি

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram