

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপর সব ডিসি-এসপি তথা মাঠ প্রশাসনের বদলির দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর এই বদলি লটারির মাধ্যমে করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংলাপ চলাকালে প্রস্তাবের কথা জানায় জামায়াত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এন এম নাসিরউদ্দিনের সভাপতিত্বে এদিন আরও ছয়টি দল সংলাপে অংশ নেয়। এ সময় কমিশনের অন্য চার কমিশনার, সচিবসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মধ্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আইনজীবী শিশির মনির অংশ নেন।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, রদবদলের বিষয়টার এক মাস হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, ডিসি সেখানে রদবদল হয়েছে। মনে হয়েছে যেন কোনো ডিজাইন করে একটা উদ্দেশ্যে কোনো জায়গা থেকে এটা হচ্ছে। তিনি বলেন, তফসিল হওয়ার পর ইসি’র আওতায় আসবে অনেক এখতিয়ার। এক্ষেত্রে লটারির পরামর্শ দেন এ নেতা।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসি আমাদের একমাত্র আস্থার জায়গা। তাই দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম- একটা চেঞ্জ। আগেও দুয়েকটা নির্বাচনে হয়েছে- তফসিল ঘোষণার পর একদিনে, এক রাতে সব ডিসি-এসপি রদবদল ঘটেছে। জাতি আস্থা রেখেছে, কমপ্লেইন ছিল না। নির্বাচন কমিশন এ রকম একটা সিদ্ধান্ত না নিলে, এখন যেটা হচ্ছে পরিকল্পিত, ইনটেনশনাল।
আচরণবিধি ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিংয়ে গণভোটের প্রসঙ্গ উঠে না আসার বিষয়টি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট প্রশ্ন প্রচারণার দায়িত্বও ইসি’র, পাশাপাশি সংসদের পাশাপাশি গণভোটের ব্যালট নিয়ে পরিকল্পনাও জানাতে হবে। ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্ষেত্রে একজন সেনা সদস্য নয়, বরং চার-পাঁচ সদস্য নিয়োজিত করা গেলে ভালো হয় বলে মত দেন তিনি।
এক্সিকিউটিভ লেভেলে প্রশ্ন আছে: আযাদ
গত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সবার প্রত্যাশা, এবার সেটার পুনরাবৃত্তি হবে না। সরকার, ইসি দল- সবার একই প্রতিশ্রুতি, এটা জাতি আশা করছে।
হামিদ যোগ করেন, ইসি’র আন্তরিতা, প্রস্তুতি, লক্ষ্য করছি আমরা। এজন্য ইসি’র প্রতি আস্থাশীল হতে চাই, আশান্বিত হতে চাই।
তিনি জানান, যে পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিস্থিতিটাই সামগ্রিক অর্থে একটা চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রকাঠামো পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। দুর্বল কাঠামোতে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ইসি সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন। প্রকৃত অর্থে বিগত দিনে স্বাধীন ছিল না। কমিশনের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার হয়েছে। ইসিকে কাজে লাগিয়ে জাতিকে বোকা বানানো হয়েছে। যার পরিণতি তিন কমিশনকে ভুগতে হচ্ছে, এটার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
বর্তমান ইসি’র প্রতি আস্থা থাকলেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ইসি স্বাধীন হতে হলে অবশ্যই সাহসী হতে হবে। আশাবাদী আপনারা সাহসী হবেন। শুধু সাহস দেখালে হবে না; স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আজকের সংলাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা যেন ট্র্যাডিশনাল ধারাবাহিকতা যেন না হয়, ব্যতিক্রম হতে চাই।
