

মহাসড়কে ডাকাতি বাড়ছেই। দেশি অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ডাকাতরা যাত্রীদের জানমালের ক্ষতি করছে। হাইওয়ে পুলিশের আইজি মেনে নিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঠিক নজরদারির অভাবে এমনটি ঘটছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হাইওয়েতে বর্তমানে দেড় হাজারের বেশি দুর্বৃত্ত সক্রিয়।
২০০৫ সাল থেকে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাতদলের তালিকায় এক হাজার ৪৪৬ জনের নাম রয়েছে। তাদের অনেকেই জামিনে বের হওয়ায় আবারও ডাকাতি করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের নাম-পরিচয় বিভিন্ন জেলা-থানা পুলিশকে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, মহাসড়কের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার ঘিরে এখন কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জনবল সংকটের কারণে তারা এই ভীতিকর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বীকার করছি, সম্প্রতি মহাসড়কে ডাকাতি বেড়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে বলে তথ্য পেয়েছি।
পুলিশ বলছে, নানা কারণে ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে কিশোর তরুণ গ্যাং সদস্যরা মাদকের টাকা জোগাড় করতেও ডাকাতি-দস্যুতার দিকে ঝুঁকছে।
বর্তমানে দেশে তিন হাজার ৯৯১ কিলোমিটার হাইওয়ে রয়েছে। দুই হাজার ৮০০ জন পুলিশ এসব মহাসড়কের দেখভাল করছে। পুলিশের দাবি, লোকবল দরকার ছয় হাজার।
সর্বশেষ গত শনিবার গভীর রাতে তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়ে গণডাকাতি হয়। এ সময় মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাতদলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে পাবনার সাঁথিয়ায় গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদেশ থেকে আসা দুজন প্রবাসী ডাকাতদলের কবলে পড়েন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কুমিল্লার মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির সময় দুই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ মিলেছে।
শুধু মহাসড়কেই নয়, রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, রোজাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসপিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, বর্তমানে মহাসড়কে ডাকাতির পাশাপাশি ছিনতাই, দস্যুতা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি নারীর শ্লীলতাহানির খবর পাওয়া গেছে।
যেসব এলাকায় ডাকাতি বেশি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও কুমিল্লার মহাসড়ক চান্দাইল, নারায়ণগঞ্জের সিমরাইলে বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়েও বেশি ডাকাতি হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত নির্জন সড়কে ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটছে জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এসব এলাকায় অনেককে আগে থেকে টার্গেট করেও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করছে ডাকাতদল। তাঁদের বিমানবন্দর থেকেও অনুসরণ করা হতে পারে।
একইভাবে শুক্রবার রাতে পাবনার সাঁথিয়ায় আঞ্চলিক সড়কের ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে বাস-ট্রাকসহ অন্তত ১৫টি গাড়িতে গণডাকাতির ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। আমাদের পাবনা প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল প্রথমে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখে। এর কিছু সময়ের মধ্যেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও হাইয়েস মাইক্রোবাসসহ অন্তত ৪২টি গাড়ি আটকা পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চালায় ডাকাতরা।
গত ১৪ জানুয়ারি র্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ বন্দরে যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে দুই প্রবাসীকে তুলে নিয়ে মারধর ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে চলন্ত বাসে যাত্রীবেশে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত দুই মাসে বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় রাতে বাস থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি মহাসড়কের মিশ্বানী এলাকায় ৩০০ বস্তা চালভর্তি ট্রাক পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মিয়াবাজার মসজিদ মার্কেটে প্রীতি জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদল গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। লুট হয় ৩৫ ভরি স্বর্ণ। ডাকাতদের গুলিতে আহত হন মোশাররফ নামের এক ব্যবসায়ী।
