ঢাকা
২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:১৯
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৩, ২০২৫

বরগুনার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি সহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

জহিরুল হক, বরগুনা: বরগুনা সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তথ্য চাওয়ার অপরাধে এক সাংবাদিককে আটক রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার (০৩ মার্চ) বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিসাট্রেট শেখ আনিসুজ্জামান মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) পটুয়াখালীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিরা হলো, বরগুনা সদর উপজেলার সাবেক নিবার্হী কর্মকর্তা মো: শামিম মিয়া, বরগুনা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাসেম মো: মিজানুর রহমান, বরগুনা সদর উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান ও বরগুনা থানার এসআই মো: সোহেল রানা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বরগুনা কেজি স্কুল রোডের আবদুল মান্নানের ছেলে অপরাধ বিচিত্রার সাংবাদিক মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সকাল অনুমান ১২ টার সময় বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে তিনি যান। বাদী তার নিকট দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অধীন বরগুনায় ৫ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য চায়। তিনি বাদীকে আংশিক তথ্য দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে যেতে বলেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদিকে দুইদিন পর আসতে বলেন। বাদী দুইদিন পর আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে যান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদীকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে চলে যান।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদীকে জানান, তাকে কোনো তথ্য দেওয়া হবে না। এ সময় বাদী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বলেন, আমার নিকট কিছু তথ্য আছে। এই তথ্য দিয়ে নিউজ করা যাবে। এমন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামিম মিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে আসেন। তিনি নির্দেশ দেয় বাদীকে ধরার জন্য। আনসার সদস্যরা বাদীর জামার কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে মো: শামিম মিয়ার সরকারি গাড়িতে উঠায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদীকে বলেন, এক লাখ টাকা চাঁদা দিলে ছেড়ে দিবে। চাঁদা না দিলে সরকারি কাজে বাঁধাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িত করব। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মো: শামিম মিয়ার সরকারি গাড়িতে বরগুনা থানায় পাঠিয়ে দেয়। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাসেম মো: মিজানুর রহমান ও এসআই মো: সোহেল রানা বাদীকে দুপুর ১ টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত অন্যায় ভাবে থানায় আটক করে রাখেন।

বাদী বলেন, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামিম মিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে এসআই মো: সোহেল রানা আমার আইডি কার্ড জব্দ করেন। আমার ফোনের ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল তা মুছে ফেলে। পতিত শেখ হাসিনার আমলে ওই আসামিরা ক্ষমতা দেখিয়ে আমার মান সম্মান নস্ট করেছে। ওই চারজন আসামিরা আমাকে থানার হাজতে আটক রেখে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে দেয়। এতে আমি সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। বরগুনার সাংবাদিকরা জানতে পেয়ে বরগুনা থানায় আসেন। পরে আসামিরা আমার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি তাৎক্ষণিক আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। একজন নাগরিক তার মামলা করার অধিকার আছে। আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে প্রমানিত হবে আমি দোষী কিনা।

বরগুনা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাসেম মো: মিজানুর রহমান বলেন, ও সেই ব্যাপার। রাশেদকে আমার থানায় রাখছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে কেন। আমি কি দোষ করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram