

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ছড়িয়ে পড়া ছবির এক নারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের সুয়েতি আক্তার বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। মেয়ের জীবিত থাকার খবরে আশায় বুক বাঁধলেও এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। তবে সুয়েতি আক্তারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছোট মেয়ে সুয়েতি আক্তার। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সুয়েতি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের কথা বলে তাঁকে পাঠানো হয় বলে দাবি স্বজনদের। এ জন্য দালাল নতু মিয়াকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তাঁরা।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুয়েতি। দেশটিতে পৌঁছানোর প্রায় ছয় মাস পর গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুয়েতিই তাঁদের আটকের বিষয়টি জানান। সুয়েতি পরিবারকে মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে বললেও প্রবাসে থাকা সুয়েতির এক বান্ধবী পরিবারকে জানায় এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।
এদিকে মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। আর নির্বাক বাবা তাকিয়ে আছেন মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিরচ্ছেদের খবর তাঁদের মনে তৈরি করেছে গভীর শঙ্কা। সুয়েতি আক্তার বেঁচে আছেন, নাকি তাঁর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ কিছু এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার।
সুয়েতি আক্তারের বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন সুয়েতি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এখন মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় দিন কাটছে মা-বাবার।
পরিবারের ও স্থানীয়দের দাবি, সুয়েতি আক্তার জীবিত থাকলে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। আর তাঁর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুয়েতি শিরচ্ছেদের ঘটনায় জড়িত রয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুয়েতির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তার ব্যাপারে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম বলেন, অফিসিয়ালি এখন পর্যন্ত কোন তথ্য পায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোঁজ নেয়া হবে।
