

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম হয়ে মাঝিয়ারা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি সড়ক দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থায় আছে। বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সেতুর সংযোগস্থলও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন এ পথের যাত্রীগণ। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন অগণিত মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন এই সড়কের সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
রসুল্লাবাদ চেয়ারম্যান অফিসের উত্তর-পূর্ব পাশের সেতু, বানিয়াচং গোরস্থানের উত্তর পাশের সেতু এবং মাঝিয়ারা বাজারে প্রবেশের সেতুর সংযোগস্থল বেশি নাজুক।
রসুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, "আমি সিজারের রোগী। চিকিৎসার জন্য নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অনেক সময় নিয়মিত চেকআপ করানো সম্ভব হয় না।"
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান খান মাসুম বলেন, "সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।"
নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুব হোসেন বলেন, "সড়কটির বেশির ভাগ অংশের অবস্থা খারাপ। সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।"
গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ও নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের বাঞ্ছারামপুর অংশের উদ্বোধন করেন। প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবে।
