

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক এম আব্দুল মোতালিব ভূইয়ার ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল আহাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের আব্দুল আহাদ ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি এম আব্দুল মোতালিব ভূইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বক্তারা জানান, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় চৌধুরীপাড়া গ্রামে সাংবাদিক মোতালিব ভূইয়ার কার্যালয়ে ঢুকে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত আহাদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আহত সাংবাদিককে প্রথমে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন মুন্সির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম হেলাল, ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আক্তারুজ্জামান, দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, এম এ করিম লিলু, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এরশাদুর রহমান মেম্বার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাবুদ্দীন শিহাব, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সানুর ওয়াদুদ সাগর এবং দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি আবু তাহের মিসবাহ।
এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, হামলার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত আহাদকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে এবং আহত সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আহাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
