

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ১টা বাজলেই ছুটি হচ্ছে মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রশ্ন করতেই ক্ষেপে গেলেন সুপার। বললেন যা পারেন লিখে দেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ছুঁইছুঁই উপজেলার ১১ নম্বর বহরবুনিয়া ইউনিয়নের মাস্টার বাজার সংলগ্ন বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুর পৌনে ১টার সময় শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে মাদ্রাসার সুপার এ এইচ এম বদরুদ্দোজা মাদ্রাসা থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। যা পারেন লিখুন বলে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেন। জানা গেছে, বর্তমানে বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, ১৪ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক শ্রেণী পাঠদানের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা থাকলেও সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিয়মিত ছুটি দিয়ে আসছেন মাদ্রাসাটির সুপার। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মাদ্রাসা প্রতিদিন ১টার দিকে ছুটি দেওয়া হয়। এটি মফস্বল এলাকা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে মাদ্রাসায় আসে। সে কারণে তাদের কথা বিবেচনা করে ছুটি দেওয়া হয়।”
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে মাদ্রাসাটিতে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালেও প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে “বহরবুনিয়া মাদাসায় দুপুর ১টা বাজলেই ছুটি’’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এরপরও নিয়মিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় অভিভাবকদের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। অনেক শিক্ষকের আবেদন রয়েছে মফস্বল এরিয়া হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সকালের খাবার খেয়ে আসতে পারে না তাই সকাল ৯টা থেকে একটানা ৩ টা পর্যন্ত মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা অনুরোধ করেন শিক্ষকরা। এ নিয়ম কোন প্রতিষ্ঠান ভঙ্গ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিষয়টি তিনি যথাযথ জবাব চাওয়া হবে।
