

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শুল্ক বন্দর বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এই বন্দর গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল অবস্থায় থাকার চরম দুর্ভোগ শিকার হয়েছিলো ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এমপির উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তাহিরপুর উপজেলার বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের দীর্ঘদিনের বেহাল সড়ক পাকা ও ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক বন্দরের সড়ক গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিএনপি নেতাগণ।
এসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখন্জী, বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সচেতন মহল বলছেন, সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক স্টেশনগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় উপর বন্দর, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও এলাকাবাসীর মধ্যেও পরিবর্তন আসবে। একেই সাথে পর্যটকদের আগমন বাড়তে। তবে সংসদ সদস্য ও এলজিইডির দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ গুরুত্বসহকারী কাজ করলে ব্যবসায়ী ও সীমান্ত এলাকা মানুষের সুদিন ফিরবে।
জামিল আহমেদ ফারুক মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সে কারনে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করা যায় না। এছাড়াও দূর্ঘটনাসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কগুলো পাকা এবং প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে সবাই।
বন্দরের ব্যবসায়ীগণ জানান, বন্দরগুলোর সড়ক ও সড়কে সেতু নির্মাণ হলে আমাদের ভারত থেকে আমাদানি করা কয়লা, চুনাপাথর পরিবহন সহজ হবে, খরচ কমে যাবে। এছাড়াও এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন হব। সড়ক গুলো ভাংঙ্গাচুরা থাকায় প্রায় সময়ই গাড়ী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, শ্রমিক ও পথচারী নিহত হয়েছে। তাই দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমনটাই আমরা আশা করছি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল জানান, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত থাকা সীমান্ত এলাকার মানুষ ও বন্দর গুলো ও বন্দরের বেহাল সড়ক গুলোর বিষয়ে আমাদের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল খুবই আন্তরিক। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে শুল্ক বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। তাই তিনি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ও শুল্ক বন্দর গুলোর সড়ক সহ অবকাঠামো উন্নয়ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। যেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী লাভবান হন। সে কারনেই আজ বন্দর গুলো ও সড়ক পরিদর্শন করেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্দর গুলোর সড়ক গুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। সড়ক গুলো দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা বর্তমান পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ এবং প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
